তানোরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাহশাহীর তানোরে বোরো খেতে সোনালী রঙ ধরেছে। পুরোদমে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে কৃষকরা তাদের কঙ্খিত ফসল কোে মাড়াই করে ঘরে তুলতে পারবে। এবার ধানের কাঙ্খিত দাম না থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরোর আবাদ।
সময়ের পরিবর্তনে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর থেকেই চাষিরা বোরো আবাদ করছেন। আগাম বোরো খেতে পুরোদমে শীষ বেরিয়ে পাকতে শুরু করেছে।
এ অঞ্চলের বিভিন্ন ইউপিতেই কয়েকদিন আগেও আলুর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন চাষিরা। চাষিরা এবারে আগাম, সময়মত ও দেরীতে আলুর জমিসহ তিনপর্বে বোরো রোপণ করেছেন। ধান কাটা-মাড়াইও হবেই তিন পর্বে।
তবে কৃষি অফিস আলুর জমিতে ১৫ মার্চেও পর রোপণকৃত বোরা ধানকে (উপসি) আউশ বলছেন। যেটা এলাকার চাষিরা বোরো ধান হিসেবে চাষাবাদ করে থাকে।
কৃসি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে আলুর জমিতে রোপণকৃত বোরো ধানসহ ১৫ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দাম ভাল না থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৫ হেক্টর বেশী জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে এখন আগাম লাগানো বোরো খেতের কোনটিতে শীষে পাক ধরতে শুরু করেছে। আবার কোনটিতে শীষ বেরুচ্ছে। তবে এখনো আলু উঠানো জমিতে কয়েকদিন আগেও চলেছে বোরো রোপণের কাজ।
তানোরের বেলখড়িয়া গ্রামের বোরো চাষি মামুনুর রশীদ চিমনা গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, তাদের খেতের ধান ১৫ দিনের মধ্যে কাটা যাবে। তবে তাদের এলাকায় বেশীরভাগ জমিতে বোরো খেতে শীষ বেরুচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন জাতের বোরো আবাদ হয়েছে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-২৮, ২৯, ৪৯, ৫০, ৫২, ৬২, বিআর-১৫, ১৬ এবং কিছু জমিতে হাইব্রিড। তবে এবারে বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি না থাকায় বোরো চারা সতেজ ছিল এবং ফলন ভাল হবার সম্ভাবনা রয়েছে ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী বলেন, বোরো চারা রোপণের উপযুক্ত সময় ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি হলেও চাষিরা শীতকে উপেক্ষা করেই ধানের চারা রোপণ করেছেন। অনেকে এখন আলু তুলে বোরো চারা রোপণ করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের তুলনায় ধানের দাম কম এটা সত্যি। তবে এমন নয় যে চাষিদের লোকসান হচ্ছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই দামেও চাষিরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ