তানোরে হিমাগারের আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান,তানোর


রাজশাহীর তানোরে স্টোরজাত আলু নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। লাভ তো দূরের কথা এবার মূলধন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে আলু ব্যবসায়ীদের। আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু তোলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে এবারে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক প্রকার বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। হিমাগারে রক্ষিত আলু বিক্রির বিষয়ে এখনই সরকারি পর্যায়ে কোন বিশেষ উদ্যোগ না নিলে বছর শেষ হিমাগার মালিকদের এই আলু ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
নতুন আলু বাজারে আসবে আর দুইমাস পরেই। অথচ গত মৌসুমের আলু অবিক্রিত আবস্থায় পড়ে আছে তানোরের প্রায় সব হিমাগারে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ বছর আলু ক্রয় করেছেন তানোরে বেশির ভাগ ব্যবসায়ী। হিমাগারের ভাড়াসহ যে আলুর ক্রয় মূল্য পড়েছে ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় সেই আলুতে ব্যবসায়ীদের বস্তা প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ৮ থেকে ৯শ টাকা। এর পরও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এখানকার খুরচা বাজারে মানভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু।
বাজারে দর কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন আগামী দুই মাসে যে আলু বিক্রি হবে এর কয়েকগুন বেশি আলু হিমাগারেই থেকে যাবে।
তাদের মতে, হিমাগারে রক্ষিত আলু বিক্রির বিষয়ে এখনই সরকারি পর্যায়ে কোন বিশেষ উদ্যোগ না নিলে বছর শেষ হিমাগার মালিকদের এই আলু ফেলে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
উপজেলার চিমনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, বেশী লাভের আশায় মৌসুমে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকায় আলুর বস্তা বিক্রি না করে স্টোরে রেখেছিলাম। বর্তমানে আলুর দাম কমসহ স্টোর ভাড়া দিয়ে বস্তায় ৮- ৯শ’ টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে।
কৃষ্ণপুর গ্রমের আলু ব্যবসায়ী আবদুুর রাজ্জাক ও আজাহার আলী, রেজাউল ইসলাম জানান, এবছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এলাকার তিনটি হিমাগারে ২০ হাজার বস্তা আলু মজুত রেখেছিলাম এবং তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুুল ইসলাম জানান, কমবেশি সব এলাকাতেই আলু নিয়ে একই সমস্যা। বিষয়টি আমরা মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছি। আগাম আলু চাষের জন্য ইতোমধ্যে কৃষকরা বিএডিসি’র আলু বীজের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আলু চাষের জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া শুরু করেছি। আলুর বিকল্প অন্য আবাদেও লাভবান হওয়া যায়, এমন বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।