তামাকপণ্যে উচ্চ হারে করারোপ আসন্ন বাজেট ঘোষণায় এর প্রতিফলন চাই

আপডেট: জুন ২, ২০১৯, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে তামাকজাত পণ্যের ওপর করারোপের দাবি সামনে এসেছে। তামাকের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যে সব সংগঠন ও সংস্থা কাজ করে তারাই এই দাবিটি সামনে এনেছে। এই দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং একই সাথে তামাকের উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধের দাবিও উত্থাপিত হয়ে আসছে। এই দাবির প্রেক্ষিতে যতটুকু সাফল্য এসেছে সেটা নেহাতই কম। কিন্তু তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের ওপর যে মারাত্মক ক্ষতির প্রভাব ফেলেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সেটি জনস্বাস্থ্য উন্য়নেরও পরিপন্থী।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কার্যকরভাবে কর আরোপের মাধ্যমে সকল তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক একটি শক্তিশালী তামাক শুল্ক-নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে অথমন্ত্রী বরাবর চিঠি (ডিও লেটার) দিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের আট সাংসদ। ডিও লেটারে তারা আসন্ন বাজেটে উচ্চহারে তামাকের কর কেন বাড়ানো প্রয়োজন তার যুক্তি তুলে ধরে প্রতিবছর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কারোপের প্রস্তাব করেন যাতে তামাকপণ্য ক্রমশ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এছাড়া তারা
অবিলম্বে একটি কার্যকর শুল্কনীতি প্রণয়নেরও প্রস্তাব ডিও লেটডারে উল্লেখ করা হয়।
অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সম্মিলিতভাবে এ বছরের এপ্রিলে সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য দিয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সংক্রান্ত খবর দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। আর এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ মাত্র ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।
তথ্য মতে, বাংলাদেশে সিগারেটে বহুস্তর বিশিষ্ট করকাঠামো চালু থাকায় বাজারে অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য সিগারেট বিদ্যমান। ফলে ধূমপান ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে ভোক্তা তুলনামূলকভাবে কমদামি সিগারেট বেছে নিতে পারছে। এছাড়া করের ভিত্তি ও করহার খুবই কম হওয়ায় বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য (জর্দা ও গুল) সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে। তামাকের ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কর বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্য বাড়ানো।
তামাক ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতে ২০১৯-২০ কর প্রস্তাব বৃদ্ধির প্রস্তাবে, সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুটি নির্ধারণ, করারোপের ক্ষেত্রে নি¤œ ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি মূল্যস্তর (নি¤œস্তর) এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরকে একত্রিত করে আরেকটি মূল্যস্তরে (উচ্চস্তর) নিয়ে আসা, নি¤œস্তরে ১০ শলাকা সিগারটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটে ৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার দাবি জানানো হয়।
এসব দাবির মূল উদ্দেশ্যই হলো তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং তামাকজনিত কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত করা। তামাকের উৎপাদন ও বাজারজাত প্রক্রিয়ায় সরকারের যে রাজস্ব আয় হয় তা তামাক ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতি হয় তার মূল্য অনেক বেশি। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। তাই আমরাও মনে করি তামাকজাত পণ্যে উচ্চ হারে কর বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী তামাক শুল্ক-নীতি গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণায় বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবেÑ এমন প্রত্যাশা সবারই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ