তামাকের কর নীতিমালা প্রণয়ন ও তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধির দাবি

আপডেট: মে ১৭, ২০১৮, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


সব তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কর ও আইনের আওতায় আনা, তামাকের কর নীতিমালা গ্রহণ, আসন্ন বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের উপর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ, ও তামাকের ওপর আরোপিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় নগরীর এসিডি কার্যালয়ে তামাক বিরোধী মিডিয়া জোটের আঞ্চলিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আত্মার সদস্য ও সময় টিভি বগুড়ার প্রতিনিধি মাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এসিডির এডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম শামীম। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সোনার দেশের ক্রীড়া প্রতিবেদক দুলাল আবদুল্লাহ, বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম’র জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি শরীফ সুমন, দৈনিক আমাদের রাজশাহীর চিফ রিপোর্টার জিয়াউল হক জিয়া, বাংলাভিশন রাজশাহী প্রতিনিধি পারিতোষ চৌধুরী আদিত্য, এসএ টিভির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আহসান হাবিব, দৈনিক সোনার দেশের গোদাগাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি একে তোতা, দৈনিক নতুন প্রভাতের বার্তা সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক জনদেশের নাটোর প্রতিনিধি মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ টুডের জয়পুরহাট প্রতিনিধি মাশরেকুল আলম, যমুনা টিভির নওগাঁ প্রতিনিধি শফিক ছোটন, এসিডির প্রোগ্রাম অফিসার তুহিন ইসলাম, কৃষ্ণা রানী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ১৩ লাখ (এঅঞঝ,২০০৯) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে শতকারা ২৩ভাগ (২ কোটি ১৯ লাখ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং শতকারা ২৭.২ভাগ (২ কোটি ৫৯ লাখ) ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, খৈনি, সাদাপাতা) ব্যবহার করেন। এই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি।
বাংলাদেশে তামাকের উপর শুল্ক-কাঠামো অত্যন্ত জটিল। মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে বিবেচনা করে তামাক পণ্যকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে হারে তামাক কর আরোপ করা প্রয়োজন এ জটিল কাঠামোর কারণে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্য বলছে, পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য, পক্ষান্তরে লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানি। তামাকের উপর বিদ্যমান কর কাঠামো পরিবর্তন করে একটি একক কর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তামাকের কর বাড়িয়ে তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব। জনসচেতনতা তৈরির জন্য তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বেশি বেশি সংবাদ উপস্থাপন করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ