তামিমের কাছে মানসিক প্রস্তুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল। এখন দল নিয়ে আলোচনার তেমন আর সুযোগ দেখছেন না তামিম ইকবাল। দলে জায়গা পাওয়া ১৫ জনকে নিয়েই বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখতে বলছেন এই ওপেনার। আর সেজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে বিসিবি। তামিম মনে করেন, এখন সবার উচিত এই ১৫ জনের পাশে দাঁড়ানো, ‘আমার কাছে মনে হয় যেই স্কোয়াডই দেওয়া হোক না কেন, যেই খেলোয়াড়কেই নেওয়া হোক না কেন, সবারই কিছু না কিছু যদি-কিন্তু থাকবে। কিছু পছন্দ-অপছন্দ থাকবে। এটাই নিয়ম। স্কোয়াড প্রস্তুত করা খুব সহজ জিনিস না। অবশ্যই এখানে কিছু খেলোয়াড় আছে যারা খুব ভালো পারফর্ম করেছে কিন্তু সুযোগ হয়নি। আবার এমনও খেলোয়াড় আছে যারা খুব ভালো করেছে এবং তাদের সুযোগও হয়েছে।’
‘আমার মনে হয় এখন কে থাকা উচিত ছিল বা কে থাকলে ভালো হতো, এই আলোচনা না করে যেই ১৫ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে তাদের পুরোপুরি পাশে দাঁড়ানো। দিন শেষে এটা বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। অমুকের জায়গায় অমুক থাকলে ভালো হতো, এমন কিছু করলে হবে কী, যারা সুযোগ পেয়েছে তারা মন ছোট করবে। আমরা চার বছর অপেক্ষা করেছি বিশ্বকাপের জন্য। এখন মন ছোট না করে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা উচিত।’
আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প। ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলনের চেয়ে তামিমের কাছে অবশ্য মানসিক প্রস্তুতিটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় হবে কী, আপনি ৫০ দিন অনুশীলন করেছেন, কিন্তু আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত না, তাহলে ওই ৫০ দিন আপনাকে খুব বেশি সাহায্য করবে না।’
তামিম এবার তার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলবেন। ২০০৭ সালে তামিম নিজের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন ফিফটি, ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছিল স্মরণীয় এক জয়। এবার ইংল্যান্ডেও বেশ কয়েকজন খেলবেন তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চে তারা তাদের প্রতিভার সাক্ষর রাখতে পারবেন বলেই বিশ্বাস তামিমের।
‘বিশ্বকাপ এমন একটা মঞ্চ, সবাই জানি যে ক্রিকেট বিশ্বে এটা সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এই একটা টুর্নামেন্ট যেখানে তারকারা জন্ম নেয়। বিশ্বকাপে ভালো করলে আপনি এক রাতেই হয়তো সুপারস্টার বনে যাবেন। এটা সব তরুণ ক্রিকেটারের জন্যই বড় সুযোগ, তারা কতটা ভালো সেটা দেখানোর জন্য। অবশ্যই আমাদের দলে এমন বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে যারা তাদের প্রতিভা দেখাবে, আর প্রতিভা দেখানোর জন্য বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো মঞ্চ হতে পারে না।’
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নেই তামিমের। দলের দাবি পূরণই তার মূল লক্ষ্য, ‘আমি কোনো লক্ষ্য স্থির করতে পছন্দ করি না। আমার যেই প্রক্রিয়া আছে, সেটা আমি মেনে চলার চেষ্টা করি। দল আমার কাছে যেই জিনিসটা দাবি করবে, আমি যেন সেই জিনিসটা দিতে পারি। এটাই আমার এক নম্বর লক্ষ্য। আমি জানি যে বিশ্বকাপের আগে কিছুদিন সময় আছে, প্লাস আয়ারল্যান্ড সিরিজ। সবার শক্তির জায়গা, দুর্বলতার জায়গা থাকে। আমি চেষ্টা করব আমার যেই দুর্বলতা আছে, সেই জায়গায় ৫-১০ শতাংশ উন্নতি করতে।’ রাইজিংবিডি