তামিল নেত্রী শশিকলা, জয়া টিভির বিপুল অঘোষিত সম্পদের সন্ধান

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


তামিল নাড়ুর শীর্ষ রাজনীতিক ভিকে শশিকলার পরিবারের সদস্য ও তাদের পরিচালিত জয়া টেলিভিশনের নামে ১,৪৩০ কোটি রুপি ‘অঘোষিত আয়ের’ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের আয়কর কর্মকর্তারা।
যাদের নামে এই বিপুল পরিমাণ অপ্রকাশিত আয়ের তথ্য মিলেছে বলে অভিযোগ তাদের মধ্যে শশিকলার ভাই ভিকে দিবাকরণও আছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
বিভিন্ন জায়গায় পাঁচদিন ধরে চালানো অভিযানে আয়কর কর্মকর্তারা নগদ ৭ কোটি রুপি, ৫ কোটি রুপি মূল্যের সোনা ও হীরা জহরতের একটি বড় সংগ্রহ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন। উদ্ধার হীরার মূল্য জানতে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।
“হিসেবের বাইরে থাকা আয়ের পরিমাণ অবশ্যই ১,৪৩০ কোটি রুপির থেকেও বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ জড়ো করে রাখা হয়েছে, এটা তার প্রমাণ,” অভিযান শেষে বলেন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
শশিকলার পরিবারের সদস্যদের পরিচালিত বেশ কয়েকটি শেল কোম্পানিরও সন্ধান পেয়েছেন আয়কর কর্মকর্তারা। মিলেছে অসংখ্য ‘সন্দেহজনক নথি’।
এনডিটিভি জানিয়েছে, শশিকলার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের লক্ষ্য করেই পাঁচদিনের এই অভিযান চালিয়েছিল আয়কর বিভাগ।
গত বছর মারা যাওয়া তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শশিকলা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাঘাম (এআইএডিএমকে) দলের সাধারণ সম্পাদক । দুর্নীতি, মুদ্রা পাচার ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগে চলতি বছরের শুরুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাকে চার বছরের কারাদ- দেয়।
অভিযান শুরুর প্রথম দিনই কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, এআইএডিএমকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জয়া টিভি গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি শেল কোম্পানি ও জাল হিসেব চালায়।
কর কর্মকর্তাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এআইডিএমকে নেতা টিটিভি ধিনাকরণ বলেছেন, এ অভিযান ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
“দুই হাজার মানুষ দিয়ে পরিচালিত এই মেগা অভিযানের কি প্রয়োজন ছিল? স্পষ্টতই যারা এআইডিএমকে সরকারকে বাঁচাতে চাইছে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে,” বলেন তিনি।

আয়কর বিভাগ অভিযানের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভারতজুড়ে ‘ক্লিন মানি ড্রাইভ’ অপারেশনের অংশ হিসেবেই এ অভিযান বলেও জানিয়েছে তারা।
কর্মকর্তারা জানান, তারা তামিলনাডু, অন্ধ্র প্রদেশ, পুদুচেরি ও দিল্লির ১৮৭টি স্থানে থাকা ১০টি গোষ্ঠীর বিভিন্ন ধরনের সম্পদে কর ফাঁকির তথ্য উদঘাটনে অভিযান চালান।
“জয়া টিভি পরিচালনা করে যে পরিবার তাদের সদস্যরাই প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। যদিও আমাদের বিশ্বাস, অন্য নয়টি গোষ্ঠীও এদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে,” বলেন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
জয়া টিভি দীর্ঘদিন ধরে এআইএডিএমকের মুখপাত্রের ভূমিকায় থাকলেও দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলানোয় কয়েক মাস ধরেই তারা ই পালানিস্বামী সরকারের কট্টর সমালোচনা করে আসছে। টেলিভিশনটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পালানিস্বামী সরকার একটি রেজ্যুলেশন নিয়েছে বলেও এনডিটিভি জানিয়েছে।
জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে দলের মধ্যে শুরু হওয়া অস্থিরতা এখনো শেষ হয়নি। বিধানসভার স্পিকার সম্প্রতি শশিকলার সমর্থক হিসেবে পরিচিত ১৮ সাংসদকে হুইপের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর অভিযোগে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করেছেন।
আদালত স্পিকারের এই আদেশ বাতিল ঘোষণা করলে এই সাংসদরা ই পালানিস্বামী সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে পারে, এমন ধারণাও করছেন কেউ কেউ।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন