তারুণ্যের শিক্ষা : সমকালীন বাস্তবতা

আপডেট: February 11, 2017, 11:59 pm

মো. আবুল হাসান, খন রঞ্জন রায়


যুগে যুগে জগতে গীত হয়েছে তরুণ ও তারুণ্যের জয়গান। প্রবীণের প্রজ্ঞা ও পরামর্শ, নবীনের বল-বীর্য, সাহস ও উদ্দীপনায় পৃথিবীতে আসে পরিবর্তন। অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঝুঁকি নিতে পারে শুধু তারুণ্য। প্রথা ভাঙার দুঃসাহস দেখাতে পারে শুধু তরুণেরাই। স্থলে, পানিতে ও মহাকাশে- যে কোনো অভিযানে অভিযাত্রী হওয়ার যোগ্য শুধু তরুণেরাই। তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তরুণ বা নওজোয়ানদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন:
অসম্ভবের অভিযানে এরা চলে,
না চলেই ভীরু ভয়ে লুকায় অঞ্চলে।
এরা অকারণ দুর্নিবার প্রাণের ঢেউ,
তবু ছুটে চলে যদিও দেখেনি সাগর কেউ।
কবির এসব কথা যে স্রেফ ভাবাবেগ নয়, তা আমাদের দেশের তরুণরা দেখিয়েছে। অতীতে আমাদের তরুণ-তরুণীরা এমন সব কা- ঘটিয়েছে, যা মানুষ কল্পনাও করে নি। তাঁদের সেই সব দুঃসাহসিক কাজ সাহসহীন তরুণদের পর্যন্ত করেছে উদ্দীপ্ত ও রোমাঞ্চিত। তরুণেরাই এখন বাংলাদেশের সম্পদ। দেশের এক চতুর্থাংশ মানুষের বয়স এখন ১৫ থেকে ২৯ বছর। ১৬ কোটি জনসংখ্যার অধ্যুষিত বাংলাদেশের তরুণ ৪ কোটি ১৭ লাখ। এইসব তরুণকে মোটা দাগে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
১. বিদেশে কর্মরত ৮০ লাখ, ২. গার্মেস্ট শিল্পে ৬০ লাখ, ৩. কৃষি / শ্রমজীবী ৮০ লাখ, ৪. বেকার প্রায় ২ কোটি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প বা আরএমজি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি রপ্তানিমুখি খাতের পোশাক শিল্পই অন্যতম। যে কোন দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের উপর নির্ভরশীল। রফতানি বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হলো, আলাদা ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা। এটি করতে হলে মানোন্নয়নের বিকল্প নেই। মান ভালো ও সস্তায় পণ্য মিললে ক্রেতারা বাংলাদেশি পণ্য ভিন্ন অন্য কিছু কিনবে না। সরকার ও মালিকপক্ষ ২০২১ সালে তৈরি পোশাক থেকে রফতানি আয় বার্ষিক ৫০ বিলিয়ন ডলার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের পাশাপাশি মান নিশ্চিত করতে হবে। আর মান বাড়াতে হলে দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ব পোশাক বাজার এখন ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ এর মাত্র ৫ শতাংশ সরবরাহ করে। এ হার ৮ শতাংশে উন্নীত করতে পারলেই ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তবে এর জন্য কর্মপরিবেশের উন্নয়ন শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
ফ্যাব্রিক ডিজাইন মার্চেন্ডাইজিং ও প্রমোশন সেবাগুলো আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। তৈরি পোশাক পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও মানের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে। ‘স্টিচেস টু রিচেস : অ্যাপারেল এমপ্লয়মেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তৈরি পোশাকের রফতানি বাজারের ৪১ শতাংশ অধিকার করে আছে চিন। চিনে পোশাক শিল্প নিয়োগের পূর্বে প্রতিটি শ্রমিকের সংশ্লিষ্ট কর্মে ডিপ্লোমা শিক্ষা বাধ্যতামূলক। ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ কর্মীরা স্বল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে উন্নতমানের কাপড় উৎপাদন করে বিশ্ব জয় করেছে।
জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও তৈরি পোশাক  শিল্পে সাড়ে ৪২ লাখ নারী শ্রমিক জাতীয় জীবনে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছে। তারা এই শিল্পে প্রবেশের পূর্বে কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ নেই। তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান নি¤œমানের, ব্যয় বেশি। চিনে এক শ্রমিক ৮ ঘন্টায় ১০০০০ পিস উৎপাদন করে, বাংলাদেশ সেখানে উৎপাদন করে মাত্র ৩৭০ পিস। বাংলাদেশের শ্রমিকদের বেতন মাসিক দশ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। এই টাকা দিয়ে খাবার বাসস্থান, চিকিৎসা ছেলে- মেয়ের শিক্ষা ব্যয় বহন করতে পারে না। প্রতিটি মেয়ে অপুষ্টিতে ভুগে। জন্ম দিচ্ছে খর্বাকৃতি শীর্ণকায় সন্তান, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দুঃসংবাদ।
এরপর রয়েছে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা। আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশে কৃষিই মানুষের মূল জীবিকা। ভূ-উৎপত্তিগতভাবে এদেশের জমি উর্বর। মূলত কৃষি ব্যবস্থার মধ্যেই গড়ে উঠেছে বাঙালি সমাজ। দেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি-অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। এ তিন-চতুর্থাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষি বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে। তদুপরি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পুঁজির অভাব, স্বল্প মূল্যে উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক দ্রব্য না পাওয়া, উৎপাদিত ফসল ভাগাভাগিতে বর্গাচাষীদের বঞ্চিত করা, ভূমিস্বত্ব ও ভূমি সংস্কার কৃষকদের অনুকূলে না থাকা, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, উৎপাদিত কৃষি দ্রব্যের সংরক্ষণ গুদাম না থাকা এবং কৃষি দ্র্রব্যের বাজারজাত করা সমস্যা। খাদ্য শস্যের মূল্য হ্রাস ও স্থিতিশীল রাখা সরকারি নীতির অন্তর্গত হওয়ায় কৃষি দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় না। অথচ আমদানিকৃত পণ্য, স্থানীয় শিল্পপণ্যের মূল্য অবিরত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সার, বীজ, কীটনাশক, পরিবহণ ব্যয় প্রভৃতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিনিয়োগ দ্রব্যগুলোর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় না, ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর মূলে রয়েছে কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিকের অভাব। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য কোনোভাবেই আশাব্যঞ্জক নয়। তথ্য অনুযায়ী, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে বাংলাদেশে শ্রমিকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এ খাতে প্রয়োজন অনুসারে ৭৫ শতাংশ দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। শ্রমশক্তি জরিপ (২০১০) এর হিসাবমতে, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত আছে। কিন্তু এর ৭৫ শতাংশই যদি অদক্ষ হয়, তাহলে এ খাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমজীবী অনেক মানুষ শহরমুখি হওয়ায় দেশে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। শ্রমিকের অভাবে জমির মালিকেরা অনেক জমি খালি ফেলে রাখতে কিংবা অন্য কাজে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষিতে যদি শ্রমিকসংকট দেখা দেয়, তাহলে তা হবে দেশের জন্য অশনিসংকেত। ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং দেশে খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি হবে। দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে আগামী পাঁচ বছরে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ৪০ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রয়োজন হবে। আর ২০২৫ মালের মধ্যে ৫৬ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে কৃষির উন্নয়ন। তাই এদেশে কৃষিক্ষেত্রে যে সমস্ত সমস্যাবলি বিরাজমান, সেগুলো সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে কৃষিতে উল্লেখযোগ্য হারে উৎপাদনশীলতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। কৃষির বিভিন্ন সমস্যাবলি মোকাবেলা করার জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা বিশেষ প্রয়োজন। যেমন- বাংলাদেশে কৃষিব্যবস্থার উন্নতি সাধন করতে হলে যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে। কম সময়ে, কম খরচে যাতে অধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়, এজন্য এদেশের সর্বত্র আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সম্প্রসারণ করতে হবে। এদেশের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাচীন চাষাবাদ পদ্ধতির পরিবর্তে ট্রাক্টর, বুলডোজার, শক্তিচলিত পাম্প প্রভৃতি আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রচলন করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। যদিও বাংরাদেশে সম্প্রতি যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতির কিছুটা প্রচলন হয়েছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত ও নগণ্য বলা যায়।
কৃষির উন্নতির লক্ষ্যের জমির উপবিভাগ ও খ-িকরণ রোধ করতে হবে। উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করে কিংবা সমবায় খামার প্রতিষ্ঠা ও বিনিময়  প্রথার মাধ্যমে  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমিগুলোকে একত্রিত করতে হবে। ফলে জমিগুলো আকারে বড় হবে এবং উন্নত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রবর্তন করে কৃষির ফলন বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব হবে।
কৃষকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা: বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক নিরক্ষর ও অজ্ঞ বিধায় তাদের মধ্যে পুঁথিগত বিদ্যাসহ কৃষিবিষয়ক শিক্ষা প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য দেশে অধিক সংখ্যক তরুণ শিক্ষার্থীকে কৃষির বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্ট করে ডিপ্লোমা কোর্স চালু করতে হবে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এক কোটিরও বেশি মানুষ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ২য় বৃহত্তম খাত হিসাবে আর্ভিভত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশসহ আমেরিকায় বাংলাদেশের অগণিত মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বতর্মান মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অদক্ষ, কারিগরি জ্ঞান না থাকা অশিক্ষিত কর্মীরা অন্যান্য দেশের দক্ষ-অভিজ্ঞ কারিগরি জ্ঞান জানা শিক্ষিত কর্মীদের তুলনায় অনেক কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অদক্ষ, আধাদক্ষ ডিপ্লোমা শিক্ষা না থাকা শ্রমিক, কর্মীদের বেতন নিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, মালিকের সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ থাকে না। তারা অন্যান্য দেশের ডিপ্লোমা জ্ঞান থাকা শিক্ষিত দক্ষ শ্রমিক কর্মীদের তুলনায় এ ক্ষেত্রে অনেক দুর্বল এবং অসুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন। অনেকটা বাধ্য হয়ে তারা অপেক্ষাকৃত কম বেতনে সেখানে কাজ করেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। ফলে বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি খাত থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যদি ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত তেমন উপযুক্ত কাজ নিয়ে বাংলাদেশের কর্মীরা বিদেশে যেতে পারে তাহলে প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে অন্যান্য দেশের কর্মীদের টেক্কা দিতে পারতো। বাংলাদেশে ৪ কোটি ১৭ লক্ষ তরুণের মধ্যে শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত আর অশিক্ষিত প্রায় অর্ধেক তরুণযুব ডিপ্লোমা শিক্ষার অভাবে কর্মহীন জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে।
দুর্বল বা অসচ্ছল অর্থনৈতিক কাঠামো বাংলাদেশের বেকারত্বের জন্যে অনেকাংশে দায়ী। সরকার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অর্থনৈতিক কাঠামো এতই দুর্বল যে, কারো পক্ষে বৃহৎ  উৎপাদনশীল শিল্পে মূলধন বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে ক্রমবর্ধমান বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। পৃথিবীতে কোন মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হতে চায় না। বিশেষ কোন পরিস্থিতি হতাশাজনিত কারণে নৈতিকতার অবক্ষয় সৃষ্টি হয়। যে টগবগে তরুণ স্বাধীন ও সচেতনভাবে বিচরণ করে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেয়ার কথা, সে যুবককে যখন অন্যের বোঝা হয়ে জীবন যাপন করতে হয় তখনই সেই হতাশায় নিমজ্জিত হয়।
আমাদের যে বিপুল জনসংখ্যা, তাকে জনশক্তি বা জনসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে জনসংখ্যার বিরাট বোঝার চাপে আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক কাঠামো নানাভাবে বিপর্যস্ত হবে। সামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধ প্রবণতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকাসক্তি প্রভৃতি অনাকাক্সিক্ষতভাবে বাড়াতেই থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে বাংলাদেশে। এটাও আমাদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। জনবহুল একটি দেশের বেশিরভাগ নারী-পুরুষ যদি কর্মক্ষম এবং উপার্জনক্ষম হন তাহলে সে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্বাভাবিকভাবেই মজবুত হতে বাধ্য। দেশটি স্বাধীন হয়েছে সাড়ে চারযুগ হয়েছে। সামনে আমরা সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করবো এই দীর্ঘ সময়ে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরির সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারিনি। বিচ্ছিন্নভাবে বিভ্রান্ত সৃষ্টির ডিপ্লোমা শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা তো হয়নি বরং দিন দিন বৈষম্য পুষে রাখার শিক্ষাকে উস্কে দেয়া হয়েছে। সময় হয়েছে উপনিবেশিক মানসিকতার শিক্ষা ব্যবস্থা উপড়ে ফেলার। জনসংখ্যামিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার কর্তৃক গ্রহণীয় ২০১০ এর শিক্ষানীতি সুপারিশের আলোকে ডিপ্লোমা শিক্ষাকে মূলমন্ত্র হিসাবে গ্রহণ করা। আর তা সম্ভব হলেই যুবতরুণদের উচ্ছন্নে যাওয়া রোধ হবে। কর্মক্ষম সৃষ্টিশীল মননশীল প্রজন্ম তৈরি হবে। সমকালীন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
লেখক : সভাপতি ও মহাসচিব, ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ।
শযধহধৎধহলধহৎড়ু@মসধরষ.পড়স