তিন ধরনের উইকেট কেন নয়?

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১:২২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রতি মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আসলেই শুরু হয় উইকেট নিয়ে আলোচনা। শোনা যায় ক্রিকেটারদের চাওয়া আর কর্মকর্তাদের সেই চাওয়া পূরণের চেষ্টার কথা। বাস্তবে যদিও মেলে না তার দেখা।
টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় মানসম্পন্ন উইকেটে খেলার বিকল্প নেই। সেটার রকমও আছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকায় যেমন খেলা হয় পেস সহায়ক উইকেটে। উপমহাদেশে আবার দেখা মেলে স্পিন সহায়ক উইকেটের। সঙ্গে ব্যাটিং উইকেটের অপশন তো থাকেই। সব মিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় পরিসরের ক্রিকেটে ভালো করতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তিন ধরনের উইকেটের চাওয়া ক্রিকেটারদের।
আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের এবারের আসর। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক যেমন জানিয়ে রাখলেন এই যৌক্তিক দাবি; টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিন ধরনের উইকেট থাকা প্রয়োজন।
একসময় দেশের মাটিতে টেস্ট ড্রয়ের আশায় ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে খেলতো বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে পরিবর্তন আসে পরিকল্পনায়। স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে খেলতে শুরু করে তারা। প্রথমবারেই মেলে সাফল্য; নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে মেলে জয়ের দেখা।
টেস্ট ক্রিকেটের আরেক শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও একই কৌশলে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সেবারও জেতে একটি টেস্ট। সব সময় যে পরিকল্পনা সফল হয়েছে তা নয়। শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারতে হয়েছে এমন উইকেট বানিয়ে।
অতিথি স্পিনাররা বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা, ব্র্যান্ডন মাভুটাদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। শুরু থেকে স্পিনাররা সহায়তা পাবেন এমন উইকেট কেবল টেস্টেই পান সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমরা। ঘরোয়া ক্রিকেট এলেই তাই শুরু হয় স্পোর্টিং উইকেটের ভাবনা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বেশিরভাগ ভেন্যুতেই খেলা হয় ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে।
২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে খেলার সময় তামিম ইকবাল বলেছিলেন, টেস্টের এই উইকেট ঘরোয়া ক্রিকেটেও চান তিনি।
“ব্যাটসম্যানদের হোম অ্যাডভান্টেজ পাওয়া উচিত। কিন্তু এই ধরনের উইকেটে আমরা কতটা খেলি? ডমেস্টিকে আমরা খেলি না। আমরা এ ধরনের উইকেটে খেলি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এলে।”
“ডমেস্টিকে আমরা ঘাসের উইকেট নিয়ে ব্যস্ত! অথচ (দেশের মাটিতে) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই উইকেটে খেলি না। এই চিন্তাগুলো বদলাতে হবে। ঘাসের উইকেটে আমরা দেশের বাইরে খেলি। বছরে একটা-দুইটা ট্যুর করি। আমার মনে হয়, আমরা যদি এ ধরনের (স্পিন সহায়ক) উইকেটে খেলতে চাই, তাহলে ডমেস্টিকেও এ ধরনের উইকেট করা উচিত।”
বাস্তবতা এখনও সেই একই আছে। পাল্টায়নি ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের সফলতম স্পিনার রাজ্জাক স্পিন সহায়ক উইকেটের সঙ্গে পেস সহায়ক উইকেট ও ব্যাটিং সহায়ক উইকেট চান। কেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রাজ্জাক। “তিন ধরনের উইকেটে খেললে আরও ভালো হবে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেললে আমরা টার্নিং উইকেট নিয়ে থাকি। ওদের স্পিনারদের সামলানোর প্রস্তুতিটা যেন আমরা জাতীয় লিগে নিতে পারি। সে জন্য অমন স্পিনিং উইকেটে খেলা দরকার। তাহলে ব্যাটসম্যানদের স্পিনে ভীতি থাকবে না।”
“বিভিন্ন দলের বিপক্ষে পরিস্থিতি হয়তো বাধ্য করবে ব্যাটিং উইকেট বানাতে। ব্যাটসম্যানদের যেন ওই মানসিকতা থাকে যে লম্বা সময় ব্যাটিং করতে হবে। আর সিমিং উইকেট। উপমহাদেশের বাইরে যে দেশেই যাবো আমাদের জন্য ঘাসের উইকেট বানাবে। সেটার জন্য আমাদের সিমিং উইকেট তৈরি করতে হবে। এটা আমার মাথায় আসছে তা না, হয়তো উনাদের মাথায়ও আছে। হয়ে যাবে।”
এনসিএলের গত আসরে প্রথম স্তরে ১২ ম্যাচে ফল হয়েছে কেবল তিন ম্যাচে। অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব মনে করেন, ফল হওয়া না হওয়াটা নির্ভর করে মূলত উইকেটের উপর। বোলারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা থাকলে ফল হয়ই।
শুরুতে এক-দুই রাউন্ডে কখনও কখনও বোলারদের জন্য সহায়ক উইকেট পাওয়া যায়। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই পাল্টে যায় উইকেট।
জাতীয় দলের খেলা, চোট আর বিশ্রামের জন্য এনসিএল, বিসিএলের মতো টুর্নামেন্টগুলোয় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। এই টুর্নামেন্টগুলোতে তাদের নিয়মিত করার কথা ভাবছে বিসিবি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, ভাবনায় আছে উইকেটও।
“আমরা চেষ্টা করছি তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য। আমাদের এবারের চেষ্টা থাকবে যতটুকু সম্ভব জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অ্যাভেইলেবল রাখার জন্য।… কিছু নির্দেশনা গ্রাউন্ডস কমিটি থেকে দেয়া হয়েছে পিচ প্রিপারেশন ও গ্রাউন্ড প্রিপারেশনের ব্যাপারে। কিছু নির্দেশনা তো দেওয়া হবেই।”