বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

তীব্র দাবদাহে ঈশ্বরদীতে মাঠে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে বোরো ধান

আপডেট: May 11, 2019, 12:52 am

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীতে ফণীর আঘাতে মাঠে নুয়ে পড়া ধান তীব্র তাপদহে নষ্ট হচ্ছে মাঠেই। ছবিটি গতকাল সাঁড়াগোপালপুর পাতিবিল এলাকার মাঠ থেকে তোলা-সোনার দেশ

ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’র পর তীব্র দাবদাহে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ঈশ্বরদীর কৃষক। এই এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান জমিতে পড়ে জলমগ্ন হয়ে নুয়ে পড়ার পর এখন প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহে জমির ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে পড়ছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার সাঁড়াগোপালপুর পাতিবিল এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে নুয়ে পড়া ধানের ছড়া থেকে পানির মধ্যে নতুন চারা গজিয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা জলমগ্ন এসব ধানখেতের পানি দাবদাহে গরম হয়ে ধানের গাছগুলো মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। জমির পানিতে নিমজ্জিত ধানের ছড়ায় নতুন চারা গজিয়ে পড়া এবং পানি টগবগে গরম হয়ে ধানের ছড়া-পাতা সবই শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে বোরো ধানের জমিতে আধাপাকা এবং অপরিপক্ক ধানের গাছ জমিতে পানির মধ্যে শুয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে এবং ঝড়ো হাওয়ায় ধানের গোছাসহ ধান নুয়ে পড়ার পর গত কয়েক দিনে দাবদাহে ধান কেটে ঘরে আনাও সম্ভব হচ্ছেনা। কৃষকরা জানান, এসব ধান এখনো কাটার উপযোগি হয়নি। তাছাড়া জলমগ্ন জমির ধান কাটার খরচও বেশি, এ ধান কেটে এনে লাভ কি, এ ধান কেটে খড় ছাড়াতো আর কিছু মিলবেনা। সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বেশিরভাগ জমির ধানই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নুয়ে পড়ে আছে, এসব ধান এখনো কাটার উপযোগি হয়নি। বাঘইলের কৃষক আজিজুর রহমান জানান, এই এলাকার বোরো ধানের আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়েছি। ধান আবাদ করার খরচই তুলতে পারবোনা এবার।
ঈশ্বরদী কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে এবছর ঈশ্বরদীতে ২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জমির ধান এখনো আধাপাকা ও কাঁচা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল লতিফ জানান, যেসব জমির ধান ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত পাকতে কম আছে সেসব জমির ধান কৃষকদের কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ