তুমুল আলোচনায় টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশি ব্র্যান্ড

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৮, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কেবল একটি টি-টোয়েন্টি জয়। তবে সেই জয় এমন বৃত্ত ভাঙা জয় যে সেটি নিয়ে চলছে নানারকম বিশ্লেষণ। জয়ের পর সেদিনের ক্রিকেটকে তামিম ইকবাল বলেছিলেন বাংলাদেশি ব্র্যান্ড। আলোচনার ঢেউ তাতে আরও উত্তুঙ্গ। ত্রিদেশীয় সিরিজে তুমুল আলোচনায় এখন বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি।
ত্রিদেশীয় সিরিজে গত শনিবার শ্রীলঙ্কার ২১৪ রান তাড়ায় অভাবনীয়ভাবে জিতেছে বাংলাদেশ। আগে যে দল কখনোই তাড়া করতে পারেনি ১৬৪ রানের বেশি, কখনোই দেখেনি দুইশ রানের মুখ, সেই দলের অমন জয় চমকে দিয়েছে অনেককেই।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল প্রথমবার বলেছিলেন বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের কথা। “আমাদের একজন ধোনি নেই যে সাতে নেমে খেলা শেষ করে আসবে। কিংবা একজন ক্রিস গেইল নেই যে শুরু থেকেই ঝড় তুলবে। কিন্তু আমরা স্মার্ট ক্রিকেটার হতে পারি। কোনোভাবে পরিকল্পনা করতে পারি এবং বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি খেলতে পারি। আমরা ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনুসরণ করতে পারি না। কারণ তাদের ক্রিকেটাররা ভিন্ন ঘরানার, আমরা ভিন্ন। আমাদের উচিত বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলা। একটি দল হিসেবে খেলতে হবে।”
টি-টোয়েন্টির ‘বাংলাদেশ ব্র্যান্ড’ ব্যাপারটিই বিস্ময় জাগানোর জন্য যথেষ্ট। ক্রিকেটের এই সংস্করণে বরারবরই ধুঁকছে বাংলাদেশ। ২০১৬ এশিয়া কাপে টি-টোয়েন্টিতে ফাইনাল খেললেও সাফল্য পরে হয়ে ওঠে ডুমুরের ফুল। র‌্যাঙ্কিংয়ে তাই বাংলাদেশ পড়ে আছে আফগানিস্তানেরও নিচে।
হারের চেয়েও হতাশার ছিল হারের ধরণ। টি-টোয়েন্টির দাবি মেটানোর জন্য শুরুতে নেই ঝড় তোলার মত কেউ, মাঝে কিংবা নেই বিস্ফোরক কোনো ব্যাটসম্যান। এই সংস্করণে নিজেদের ছাপটা রাখতে পারেনি বাংলাদেশ, নেই নিজস্ব কোনো ঘরানা। নিজেদের একটি ব্র্যান্ড গড়ার ভাবনাটিই তাই দুঃসাহসী।
তবে সেই দুঃসাহসই দেখিয়েছে দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা। নিজস্বতা তৈরির সেই তাড়না থেকে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের জন্ম। হতাশার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর সামনে এগোনেই কেবল সম্ভব। সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছে দল।
ক্রিকেটাররা অনুভব করেছেন, নিজেদের ধরনটা বুঝে, নিজেদের সামর্থ্যের সীমানায় থেকেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে জয় করতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন সেই ভাবনার কথাই।
“আমাদের পাওয়ার হিটার নেই বা অমুক-তমুক নেই, এসব ভেবে হতাশ হয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। শুধু খেলার জন্য খেলার কোনো মানে নেই। ভালো করার উপায় বের করতে হবে। আমরা সেটিই করতে চেয়েছি।”
এই বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টির মূল উপকরণ ‘স্মার্ট’ ক্রিকেট। চোখধাঁধানো কিছু খুব জরুরি নয়, তবে কার্যকর কিছু করা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা। পরিস্থিতি অনুধাবন করা, প্রতিটি মুহূর্তের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকা। একজনের বীরত্বের অপেক্ষায় না থেকে একটি দল হিসেবে খেলা।
ব্যাপারটির আরও ভালো ব্যাখ্যা দিলেন মাহমুদউল্লাহ। আগের কয়েক দিনে তামিম-মুশফিকের মতো বাংলাদেশ ব্র্যান্ড নিয়ে কৌতুহলের তীব্রতা মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে উপলব্ধি করলেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, নিজেদের ব্র্যান্ডের ভেতর-বাহির।
“আমরা সফর শুরুর আগে ঠিক করেছিলাম যে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি খেলব আমরা। আমাদের স্মার্ট হতে হবে। স্কিল আমাদের আছে। স্মার্ট হতে হবে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে। হয়ত কোনো সময় কোনো একজন বোলারকে আমরা টার্গেট করতে পারি। সেটা একজন ব্যাটসম্যান আরেকজনকে বলতে পারে বা এরকম আরও কিছু খেয়াল করলে সেটা বলা।”
“এই ব্যাপারগুলোর প্রয়োগই আমরা চাই। যখন যা প্রয়োজন, সেটি করতে পারাকেই আমরা বলছি বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের টি-টোয়েন্টি। আমাদের পাওয়ার হিটার নেই। এটা মেনে নিয়ে আমারে পথ চলতে হবে হবে এবং জিততে হবে। সেটির উপায়ই হলো স্মার্ট ক্রিকেট খেলা। নিজেদের স্কিলগুলোর প্রয়োগ করতে হবে।” বুধবার এই বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের আরেকটি পরীক্ষা। চ্যালেঞ্জ জানাতে অপেক্ষায় ভারত।