তৃণমূল চায় নতুন নেতৃত্ব জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৪ ডিসেম্বর

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৯, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আগামি ৪ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার দিন নির্ধারিত আছে। ইতোমধ্যে সম্মেলন ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। পুরাতনদের সাথে সাথে নেতৃত্বের দৌড়-ঝাঁপে রয়েছেন নতুন মুখও। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের অবস্থান থেকে করছেন লবিং-গ্রুপিং। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপজেলাভিত্তিক প্রত্যাশা থাকলেও বেশিরভাগ নেতাকর্মী চায় কমিটিতে এবার নতুন নেতৃত্ব আসুক। তবে কমিটিতে বর্তমান নেতৃত্বকেও চান অনেকে।
তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিভিন্ন সময় দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। তারা যেমন পদ-বঞ্চিত হয়েছেন, একইভাবে দলীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকে দলে কোণঠাসা হয়েছে পড়েছেন। অনেকে কোণঠাসা হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এইজন্য উপজেলায় তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে নানা বিভক্তিও। উপজেলায় যারা দলে পদবঞ্চিত তারা স্থানীয় সাংসদদের বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। আর যারা সাংসদের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন তারা সাংসদের অনুসারীদের কমিটিতে প্রত্যাশা করছেন। আবার তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ নিজেই এবার জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবাই চায় কমিটিতে এবার নতুন নেতৃত্ব আসুক।
উপজেলা পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যেকটি উপজেলায় নেতাকর্মীরা দুইটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপ সাংসদের পক্ষে আর একটি গ্রুপ সাংসদবিরোধী। তবে বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা তাদের স্ব স্ব আসনের সাংসদরা কমিটিতে নেতৃত্বে আসুক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন। আবার সাংসদবিরোধীরা খুঁজছেন সাংসদের অনুসারীর বাইরের কেউ নেতৃত্বে আসুক।
বাগমারা আওয়ামী লীগের কর্মী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কমিটিতে এমন নেতৃত্ব চায় যারা দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবে। দলকে গতিশীল করবে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও নীতি বজায় রাখবে। তবে এইজন্য নতুন নেতৃত্ব অবশ্যই দরকার। আমি মনে করি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিবে।
গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুঃসময়ের অনেক ত্যাগী নেতা অবহেলিত ও কোণঠাসা হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আমার মতে দলে এবার এমন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা উচিত।’
চারঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগে স্বচ্ছতা ও সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রত্যাশা করছি। এমন নেতৃত্ব চায় যারা দলের ভেতরে পরিবর্তন নিয়ে আসবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগে বিদ্যমান সব জটিলতা নিরসন করে একটি সুন্দর নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি। এমন একটি নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি যাতে আগামি দিনের জেলার রাজনীতি প্রাণবন্ত ও বেগবান হয়।
দুর্গাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার আলী বলেন, একজন জনপ্রিয় নেতা যে সত্যিকার অর্থেই সৎ এবং ভালো মানুষ, জনকল্যাণে কাজ করেন, এমন নেতা আমরা চাই। কর্মীবান্ধব এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি যারা আপদে-বিপদে সবসময় কর্মীদের পাশে থাকবেন। এমন নেতা যদি জেলার নেতৃত্বে আসেন তাহলে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। তবে বলতে চাই, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরির্বতন অতি জরুরি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, সৎ সাহসী, মেধাবী ও কর্মীবান্ধব নেতা চাই। যে নেতা কর্মীদের মূলায়ন করবেন। সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাবেন। যার কথা আমরা শুনবো এবং আমাদের কথা ওই নেতা শুনবেন। সেরকম নেতা দরকার।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ৪ ডিসেম্বর শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে। উপজেলা, থানা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরে হবে। ফলে প্রস্তুতি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে প্রস্তুতি নিয়েও কোনো সমস্যা নেই।
কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এই বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো ঠিক করিনি। নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে দেখি, তারা যে পদে চাইবেন সেই পদে দাঁড়াবো।