বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

তোমকে খুব মনে পড়ে মা

আপডেট: December 14, 2019, 12:54 am

ড.এবিএম জহিরুল হক


মাগো, তুমি কেমন আছো
কতোদিন দেখি না তোমায়।
তুমি কেমন করে আমাদের ছেড়ে আছো এতোদিন ?
যে তুমি কাছ ছাড়া হতে চাওনি কোনোদিন।
তোমাকে রেখে এসেছিলাম সেদিন মুন্সিপাড়া গোরস্থানে
জানাজা সম্পন্ন হলে নিউ সেনপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে।
তুমি চেয়েছিলে তোমার স্বামীর পাশে থাকতে
বিধাতাকে ধন্যবাদ তোমার সে ইচ্ছে পূরণ হয়েছে।
পরে তোমাদের দেখতে বার বার সেখানে গিয়েছি সেখানে
কবর ছুঁয়ে দোয়াও করছি !
মা, তুমি কি আমাদের দেখতে পেতে ?

মনেপড়ে মা, তুমি কবিতা শোনাতে
কি স্মরণশক্তি মাগো তোমার – অবাক মানি।
সেই ছোট বেলায় তুমি পড়েছিলে
সত্যপরীরের পুঁথি কবিতা-কাহিনী
তুমি অনর্গল আবৃত্তি করতে
সত্যপীরের সে ছন্দবদ্ধ কবিতা খানি
পাশে শুয়ে তুমি আরও কতো গল্প শোনাতে
তোমার মুখের পানের অংশ আমরা চেয়ে নিতাম
– মা তোমার মনে আছে ?
– তুমি পান খেতে পছন্দ করতে-
– সাথে চায় প্রিয় জর্দা বনেদী
কি জানি কি নাম তার মনে হয় ‘শাহজাদী’
তোমার জন্য জর্দা কিনতে যেতাম রংপুরের পুরানো বজারে
সে কি বাহারি জর্দা আহারে-। চুমকি তাবক দেয়া সুগন্ধে ভরা;
মা তুমি জর্দা হাতে নিয়ে পরখ করতে আর কতো খুশি হতে
বলতে, হ্যাঁ ঠিক জর্দাই এনেছো বটে।
আমারও মনটা আনন্দে ভরে যেত

মা, তুমি মুখ বুঁজে কতো চাপ কাঁধে নিয়েছিলে
হাসিমুখে সবার কতো আবদার রক্ষা করেছিলে
তুমি হয়েছিলে অসমহায় জনের ‘ধর্মমাতা’
তুমি ছিলে এক ‘বাতিঘর’ সবার পরামর্শদাতা
আশ্রয়হীনের ছিলে তুমি আশ্রয়দাতা, দিতে ঠিকানা
বলতে,অসহায়জনে যে সাহায্য করে আল্লাহ তাঁকে দ্যাখে
লোকে বলতো তোমার হাতের কত ফজিলত
তুমি যা রোপণ করো তাতেই আসে অসীম বরকত।

মা, তুমি আম বড় ভালোবাসতে
আমের মৌসুমে ফেরিওয়ালা ডেকে আম কিনতে-
পদাগঞ্জের সেরা সব আম।
বলতে,আম খাও বাবা অন্য খাবার না হয় কমই খেলে-
আমতো পাব না আর মেসৈুম চলে গেলে।
তুমি অন্তরের দরদ দিয়ে বৃক্ষ রোপণ করতে
বলতে, এ কাজ উত্তম এ যে সদকায়ে জারিয়া
-মানুষ, পশুপাখি ফল খাবে আর তুমি সওয়াব পাবে।

মা, তোমার আম-কাঁঠালের গাছ এখনও আছে
ফল হয়। ফল খায়। আর তার ডালে বসে পাখি গান গায়
সে ফলে মিটাই প্রতিবেশির আবদার
তুমিই তো শিখিয়েছো- তারও যে এ সবের হকদার।
মা, তোমার অন্তিম ইচ্ছেই তুমি ঠাঁই পেলে মুন্সিপাড়ায়
আমরা যাই সেখানে , দোয়া করি সকলের তরে
তোমার রেখে যাওয়া বৃক্ষরাজি ফুলে ফলে হয়ে উঠুক উদ্ভাসিত-
সাজানো বাগান ভরে উঠুক স্বর্গ সুধায়-
আর করুণাময়ের আশীর্বাদ বর্ষিত হোক
তোমদের পরে অজস্র ধারায়।