ত্রিভুবনে বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্ত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হোক

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের বেসরকারি বিমানসংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রুসহ ৬৭ আরোহীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ পুরুষ, ২৭ নারী ও দুই শিশু ছিল। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে থাকা ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন ক্রু এবং ২২ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে; আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন দশজন। ওই বিমানে নেপালের ৩৩ জন নাগরিক ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ১৩ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশ ও নেপালের প্রতিটি মানুষকে স্পর্শ করেছে। মানুষ শোকে বিহ্বল। মঙ্গলবার বাংলাদেশের সব ঘটনা ছাপিয়ে বিমান দুর্ঘটনা সংবাদ ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি।
সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনের তথ্য অনুয়ায়ী দুর্ঘটনার পর ব্ল্যাকবক্স উদ্দার করা হয়েছে। নেপালি ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নেপালে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত করতে ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু পৌঁছে গেছেন ইউএস বাংলার সিইও, ডিএমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই দুর্ঘটনা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ ও নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দায়ী করছে। যদিও কাঠমন্ডুর ত্রিভুবন বিমান বন্দর আন্তর্জাতিকভাবেই ‘বৈরি’ হিসেবে পরিচিত। এর আগে অনেকগুলো বিমান দুর্ঘটনার জন্য বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকেই দায়ী করা হয়ে থাকে। সোমবারের দুর্ঘটনাকেও তেমনি ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে। নেপালি এ দৈনিক বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমনই আভাস মিলেছে।
দুর্ঘটনা নিয়ে তিবর্ক সৃষ্টি না করে এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্য দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে এটাই সকলের প্রত্যাশা। তার আগে অগ্রিম মন্তব্য কিংবা বিতর্ক সৃষ্টি কোনোক্রমেই প্রত্যাশিত নয়। ত্রিভুবন বিমান বন্দরের ৬ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্দেহ সংশয় প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্ত তদন্ত প্রক্রিয়াকেও বিতর্কিত করতে পারে। তদন্ত শুরুর আগেই ওই কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত না করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় বিতর্ক সৃষ্টির সুযোগ থেকে যায।
বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রমাণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ব্ল্যাকবক্স রিডিঙের মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। প্রত্যাশা করা যায়, রিডিঙের মাধ্যমে পজিটিভ আইটপুট পাওয়া যাবে। প্রকৃত দোষিকেও সনাক্ত করা যাবে। সব কিছুই নির্ভর করবে তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ ও নির্মোহ তদন্তের ওপর।
সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশি নিহতদের মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ স্বজনদের হাতে তুলে দেবেন। নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য ইউএস বাংলা প্রস্তুত। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত লাশ ফেরতের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আমরা আশা করি।
এই বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য আমরা শোকাহত। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাঁদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই সমবেদনা- সহমর্মিতা। যারা আহত হয়েছেন তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন, সেই প্রত্যাশাও রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ