থানায় ধর্ষকের বিয়ে || পাবনা সদর থানার ওসি প্রত্যাহার ও এসআই বরখাস্ত, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি


পাবনায় গৃহবধুকে ধর্ষণের পর থানায় ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার এবং সাব ইন্সপেক্টর একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের নির্দেশে পাবনা জেলা প্রশাসক গতকাল তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ১৫ সেপ্টম্বরের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যগণ হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু জাফর।
তিনি বলেন, থানা কম্পাউন্ডে অভিযুক্ত ধর্ষক রাসেল এর সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসি ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে কাজী ডেকে থানায় বিয়ে দেয়ায় সংশ্লিষ্টতা থাকায় এস আই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ধর্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আলী হোসেন এবং সঞ্জু হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট ৫ জন গ্রেফতার হলো।
পাবনা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ ৫ জনকে আসামী করে মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে গ্রেফতার করে। পরে বুধবার সকালে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে পরিবারের কাছে নির্যাতিতা গৃহবধূকে হস্তান্তর করে পুলিশ। ঘন্টু স্থানীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও তার অপকর্মের দায় দল নেবে না বলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল সাহাপুর গ্রামের তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাসেল, ঘন্টু, ওসমান, হোসেন ও সঞ্জু নামের ৫ যুবক আটকে রেখে টানা ৪ দিন ধরে ধর্ষণ করে।
পরে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই গৃহবধূ নিজেই বাদি হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত না করে অভিযুক্ত এক ধর্ষক রাসেলের সাথে থানা চত্বরে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটির নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন ওসি। এ সংবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।
গতকাল এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এবং দুর্নীতিবাজ পুলিশদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবিতে মহিলা সমিতি শহরের প্রধান সড়কে মানববন্ধন করে।