‘দলকে ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারলেই আমি খুশি’

আপডেট: মে ২৬, ২০১৯, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সাফল্যের পথে যাত্রা শুরু। বিশ্বকাপের ঠিক পরেই মোস্তাফিজুর রহমানের অভিষেক। কাটার আর সুইংয়ে ভারতকে নাস্তানাবুদ করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গত চার বছরে নিজেকে শাণিত করে আজ তিনি টাইগারদের পেস আক্রমণের অন্যতম অস্ত্র। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেললেও এটাই তার প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ইংলিশ কন্ডিশনে জ্বলে উঠতে মরিয়া ‘কাটার মাস্টার’ বিশ্বকাপের সম্ভাবনা-পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কথাই বললেন বাংলা ট্রিবিউনকে। বাংলা ট্রিবিউন: জীবনের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপের সামনে দাঁড়িয়ে নিশ্চয়ই রোমাঞ্চিত?
মোস্তাফিজ: যে কোনও প্রথমের অনুভূতি অন্যরকম। আর বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে প্রথম খেলার তো তুলনাই হয় না। আর সবার মতো আমিও বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত, বিশ্বকাপ দলে থাকতে পেরে গর্বিত।
বাংলা ট্রিবিউন: ২০১৫ বিশ্বকাপের সময় কি ভাবতে পেরেছিলেন পরের বিশ্বকাপেই আপনি খেলবেন?
মোস্তাফিজ: গত বিশ্বকাপের পরই আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। শুরু থেকে আমার ভাবনায় ছিল, সাফল্য পেলে বড় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ আসবেই। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার বোলিংয়ের মূল অস্ত্র কাটার আর স্লোয়ার। বিশ্বকাপে আপনার হাতে নতুন কোনও অস্ত্র দেখা যাবে?
মোস্তাফিজ: আমি প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করি। এটা ঠিক যে স্লোয়ার-কাটারের বাইরে আমার হাতে খুব বেশি অস্ত্র নেই। তবে বোলিংয়ে আরও ভ্যারিয়েশন আনার চেষ্টা করছি। সবাই বলছে, এবার ইংল্যান্ডের উইকেটগুলো ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গরাজ্য হবে। সাফল্য পেতে তাই অনেক ঘাম ঝরাতে হবে বোলারদের। শুধু এটুকু বলতে পারি, বিশ্বকাপে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: ইংলিশ কন্ডিশন সম্পর্কে তো আপনার ভালোই ধারণা। দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেছিলেন, তার আগে খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ব্ল্যাস্টে। সে সব অভিজ্ঞতা এবার নিশ্চয়ই কাজে আসবে?
মোস্তাফিজ: যে কোনও অভিজ্ঞতাই বোলিংয়ে সাফল্য পেতে সাহায্য করে। তবে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টাইট বোলিং, মানে লাইন-লেংথ ঠিক রেখে বোলিং খুবই জরুরি।
বাংলা ট্রিবিউন: অনেকের মতে ডেথ ওভারে আপনি বাংলাদেশের সেরা বোলার। এই স্বীকৃতি মাঠে আপনাকে কতটা উদ্বুদ্ধ করে?
মোস্তাফিজ: প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে! মাঠে আমি বাড়তি দায়িত্ব অনুভব করি, সবার প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করি। আমার সাফল্যের পেছনে দলের সিনিয়রদের কৃতিত্ব অনেক। তারা আমাকে সব সময় উৎসাহিত করেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করি।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
মোস্তাফিজ: তেমন কোনও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নেই। বেশি কিছু ভেবে আসলে লাভও নেই। প্রয়োজনের সময় দলকে ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারলেই আমি খুশি। সবচেয়ে বড় কথা, দলের জয়ে যেন অবদান রাখতে পারি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে বিশেষ কোন ব্যাটসম্যানের উইকেট নিতে চান?
মোস্তাফিজ: একজন বোলার হিসেবে সব ব্যাটসম্যানই আমার প্রতিপক্ষ। তবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর ভারতের বিপক্ষে সাফল্য পেলে ভালো লাগবে।
বাংলা ট্রিবিউন: ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৫ ও ৬ উইকেট নিয়ে আপনি একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। এবার ভারতের বিপক্ষে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা আছে?
মোস্তাফিজ: সব দলের বিপক্ষেই ভালো খেলতে চাই। আমার প্রধান লক্ষ্য যতটা সম্ভব ভালো খেলা। ভারতের বিপক্ষে ভালো বল করতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। কারণ ভারতে বেশ কয়েকজন দারুণ ব্যাটসম্যান আছে।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কত দূর যেতে পারে বলে আপনার ধারণা?
মোস্তাফিজ: ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে আমাদের দলটা ভারসাম্যপূর্ণ। আমাদের দলে ৫/৬ জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা, আমরা সেমিফাইনালে খেলবো। আশা করি, শেষ চারে খেলতে পারবে বাংলাদেশ।