দাম বেশি, বিক্রি করা হচ্ছে অপরিপক্ক লিচু

আপডেট: জুন ৫, ২০১৮, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কুরবান আলী, দিনাজপুর


দিনাজপুর বাজারে দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে অপরিপক্ক লিচু-সোনার দেশ

দাম বেশি, তাই অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ক লিচু বেচাকেনা হচ্ছে দিনাজপুরের বাজারে, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ বলছে, লিচু পরিপক্ক হতে অন্তত আরও ৭ দিন সময় লাগবে। তবে বাগান মালিক ও কৃষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ে এবং কিছুদিন পরে দাম কমে যেতে পারে এই আশঙ্কায় তারা এসব লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন। তাছাড়া ইতোমধ্যেই লিচু ফাটতে শুরু করেছে এবং খোসাপচা রোগও দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুমাসের ফল হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের লিচুর বাগানগুলোতে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় লিচু। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কম-বেশি লিচুর বাগান রয়েছে। দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাঁঠালি উল্লেখযোগ্য। প্রতিবছর এ জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় লিচু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আর বেদেনা জাতের ভাল লিচু বিদেশেও পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার একটু আগেভাগেই জমে উঠেছে দিনাজপুরের লিচু বাজার। দিনাজপুর শহরের প্রধান ফলের বাজার নিউ মার্কেটে লিচু উঠতে শুরু করেছে। ঠিকভাবে রঙ ও স্বাদ না আসলেও এসব লিচু বিক্রি করা হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। বর্তমানে দিনাজপুরের বাজারে প্রতি ১’শ চায়না-থ্রি বিক্রি হচ্ছে ৬ শ’ থেকে ৮শ’ টাকা, বেদেনা ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, মাদ্রাজি ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা, বোম্বাই আড়াইশ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা এবং প্রতি ১’শ হাড়িয়া লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬শ’ টাকা দরে।
দিনাজপুরের রাজবাটী এলাকার সৌরভ অধিকারী জানান, বাজারে লিচু ওঠায় তা কিনে নিয়ে যান বাড়িতে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে লিচু খেয়ে দেখেন লিচুতে এখনও মিষ্টতা আসেনি, এখনও টক।
একই কথা জানালেন শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, নতুন ফল বাজারে উঠেছে, তাই কিনেছিলেন। কিন্তু লিচু খেয়ে মনে হয়েছে তার সব টাকাই পানিতে দেওয়া হয়েছে। এসব লিচু খাওয়ার উপযোগী হয়নি বলে জানান তিনি।
নিউ মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী ওবাইদুর জানান, সব লিচুই অপরিপক্ক এটি সঠিক নয়। অনেক লিচুই পরিপক্ক হয়েছে। মাঝে মধ্যে দুয়েকটা কাঁচা রয়েছে, যেগুলো একটু টক। তবে পরিপূর্ণ পাকা লিচু খেতে হলে আরও দু’দিন সময় প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
দক্ষিণ নগর এলাকার লিচু চাষি বেনু রাম সরকার জানান, এখন ঝড়ের সময়। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, তাহলে যা আছে সবটাই লোকসান গুনতে হবে। তাই লিচু বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া এখন দামও বেশ চড়া, তাই অনেকেই অপরিপক্ক লিচুই বিক্রি করছেন।
লিচু বাগান ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিপক্ক হয়েছে এবং খাওয়ার উপযোগী হয়েছে মাদ্রাজি লিচু। তবে কিছু কিছু ব্যবসায়ী ও চাষি অপরিপক্ক লিচু বাজারে নিয়ে আসছে। এতে করে লিচু গাছে থাকলে যে আরও দানা হওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না। তাছাড়া লিচুতে সেই স্বাদও নেই। তবে অনেকেই অধিক মুনাফার আশায় এসব লিচু বিক্রি করছেন।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর দিনাজপুরের উপ-পরিচালক তৌহিদ ইকবাল জানান, আবহাওয়া অনুযায়ী দিনাজপুর জেলার লিচু পরিপক্ক হতে আরও অন্তত ৭ দিন সময় লাগবে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের পরে এবং পরিপক্ক ও স্বাদযুক্ত লিচু বাজারে নিয়ে আসতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় ২ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় বাগানসহ বসতবাড়ির ভিটা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখের মতো লিচু গাছ রয়েছে। এসব গাছে ফলন হবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন লিচু। তবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় লিচু লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর নতুন নতুন বাগান করছে লিচুর বাগান মালিকরা। এতে প্রতিবছরই গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ