দারিদ্র বিমোচনের গতি শ্লথ আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈষম্য কমাতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও দেশের সব অঞ্চলে দারিদ্র্য কমার হার সমান নয়; কমার গতিও শ্লথ। বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে অর্থনীতির গতি বাড়লেও দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ে পশ্চিমের রংপুর বিভাগে দারিদ্র্য বেড়েছে, রাজশাহী ও খুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন নেই। অন্যদিকে চট্টগ্রামে দারিদ্র কমেছে পরিমিতভাবে, বরিশাল, ঢাকা ও সিলেটে কমেছে দ্রুতগতিতে। এ তথ্যই বলছে দেশের সব অঞ্চলে দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি সমানভাবে বাস্তবায়িত হয় নি এবং এর মধ্য দিয়ে বৈষম্যের চিত্রও ফুটে উঠে। অর্থাৎ এক অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের বৈষম্যটা খুবই পরিষ্কার। এই পরিস্থিতি এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক তথ্যই বটে।
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে অতি দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ হবে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে গড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপ ২০১৬তে এ চিত্র পাওয়া গেছে। দেশের মোট আয়ের ৩৮ শতাংশই করেন উপরের দিকে থাকা ১০ শতাংশ ধনী। গরিবদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ কমে গেছে। ধনিদের তা বেড়েছে।
আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈষম্যের চলমান এই ধারাকে অব্যাহত রেখে এসডিজি অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য উল্লেখ করার মত তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু দারিদ্র বিমোচনের হার সমান গতিতে না চললে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করা দুরূহ হয়ে পড়বে। এর জন্য যে আয় ও সম্পদের বৈষম্য রয়েছে সেটাকে কী ভাবে কমিয়ে আনা যায় সে দিকে গভীর মনোযোগের দাবি রাখে।
আয় ও সম্পদ বণ্টনের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যকে দারিদ্রের জমজ ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যে সমাজে বৈষম্য বাড়ানোর আয়োজনগুলো শক্তিশালী করা হয়, ওই সমাজে দারিদ্র্য নিরসন কঠিন হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ যাতে সেই পথে পা না বাড়ায় সেই পরিকল্পনা ও কৌশল এখনই গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এসডিজি বাস্তবায়নের বেধে দেয়া লক্ষ্য অর্জনের সময় খুব বেশি নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ