দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশের অগ্রগতি সাফল্যের ধারায় রাজনীতিকেও এগোতে হবে

আপডেট: জুলাই ১৪, ২০১৯, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের যে তিনটি দেশ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে সব ধরনের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি প্রকাশিত ‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স ২০১৯’ এ উঠে এসেছে বাংলাদেশের সাফল্যের এই চিত্র। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন গণমুধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের এই সাফল্যের চিত্র দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করবে, অনুপ্রাণিত করবে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজিতে যে ১৭টি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তার প্রথমটি হল দারিদ্র্য বিমোচন। ২০৩০ সালের মধ্যে সব জায়গা থেকে ‘বহুমাত্রিক’ দারিদ্র্য দূর করার কথা বলা হয়েছে সেখানে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো কতটা এগোতে পারল, তা বোঝার একটি কৌশল এই ‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স’ বা এমপিআই।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল মাথাপিছু আয়কে দারিদ্র্যের নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচনা না করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মোট দশটি মানদ-ে দারিদ্র্যকে পরিমাপ করা হয় এই সূচকে।
দশটি মানদ-ের মধ্যে কোনো পরিবারে যদি এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে, তাহলে ওই পরিবার বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে বলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর হার, জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, সম্পদের মালিকানা ও বিছানা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলে উপস্থিতি ও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার হারকে মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই গবেষণায়। ইউএনডিপি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ যে এগুচ্ছে এই গবেষণা প্রতিবেদন তারই সাক্ষ্যবহন করে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশে এসডিজি অর্জন করবে বা করতে পারে। তবে বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের সাফল্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ দায়িত্ব ও গুরুত্বের সাথে পালন করছে এটা বলা যায়। সমন্বিত ধারাকে আরো বেগবান করা গেলে এসডিজি অর্জন অধরাও কিছু নয়। বাংলাদেশ যে, সাফল্যের এই পর্যায়ে আসতে পারেÑ এই ধারণাই অনেকের মধ্যে ছিল না। নেতিবাচক ধারণা থেকেই দেশের রাজনীতির একটা অংশ পরিচালিত হয়েছে। এখনো হচ্ছে। এরা সাফল্য ভোগ করে কিন্তু তা স্বীকার করতে চায় না। বাংলাদেশ যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এই বোধ দ্বারা দেশের মানুষকে জাগরিত করার মত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিপর্যয় ঘটেছিল পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। তারপর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রকে ভঙ্গুর করে তোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ দেশে দারিদ্র যেন ললাট লিখনের মতই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ আবার স্বরূপে উন্নয়নের ধারায় আবির্ভুত হয়। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন মর্যাদার একটি নাম। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষিতে অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এই ধারারই প্রতিনিধিত্ব করতে চায় নতুন প্রজন্ম। কোনো অপশক্তি যাতে বাংলাদেশকে আর খামচে ধরতে না পারে- রাজনীতিকে সেই পথেই নিয়ে যেতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ