বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ

আপডেট: September 7, 2017, 12:56 am

পাবনা প্রতিনিধি


পাবনার দাশুড়িয়া ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগপত্র এখন ভূমিমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের হাতে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য, স্কেল পরিবর্তন ও পদোন্নতি দিতে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি প্রদান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ, দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় মেধাবী শিক্ষকদের নানা ছুঁতোয় কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অভিযোগ এনেছে কলেজের ৪০ জন শিক্ষক লিখিত ভাবে।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কলেজ গভর্ণিংবডির সভাপতি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির সভাপতিত্বে কলেজ গভর্ণিংবডি ও শিক্ষকদের মাঝে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর ওই মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ লিখিত আকারে তুলে ধরা হয়। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুুল কাদের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় লিখিত অভিযোগ পাঠ করে শোনান কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মুশফিকুর রহমান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর করা ওই অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির রাজনীতি মনস্ক জামায়াতে ইসলামীর অন্ধভক্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুুল কাদের জাতীয় শোক দিবস, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবল্টু’ বলে সম্বোধন করে থাকেন। অধ্যক্ষের এই ঘৃণিত কাজের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করেছেন। অথচ অজ্ঞাত কারণেই জাতির পিতাকে নিয়ে কটুক্তিকারী ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। অথচ অজ্ঞাত ইশারায় কথিত শক্তিধর এই অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে কেউ কোন ধরণের কথা বা প্রতিবাদ জানালেই তার উপর চাকরি হারানোর হুলিয়া জারি হয়ে যায়।
শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগে জানায়, চাকরি স্থায়ীকরণের কথা বলে ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৮ লাখ ৫ হাজার এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক লাবণী দাসের কাছ থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। তাদের চাকরি স্থায়ী হবে না বলে শিক্ষাবিভাগের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে। তারপরে তাদের অর্থ ফেরত দিতে অধ্যক্ষ আবদুল কাদের টালবাহনা শুরু করেন।
স্কেল পরিবর্তন ও পদোন্নতির সময়ে অধ্যক্ষ আবদুুল কাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করে থাকেন বলে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ করেছেন। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে জুনিয়রকে সিনিয়র এবং সিনিয়রকে জুনিয়র বানিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ভূয়া রশিদ বানিয়ে তিনি দীর্ঘদিন থেকে আত্মসাৎ করে আসছেন। অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচার এবং দূর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার রোষানলের শিকার হয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন কলেজের গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষক আজমল হোসেন ও ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক কোহিনুর ফেরদৌস। অপর একজন ইংরেজী বিষয়ের মেধাবী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতিকে উপক্ষো করে পাঁচ বছর বরখাস্ত করে রেখেছেন অধ্যক্ষ। ওই মতবিনিময় সভা শেষে কলেজ গভর্ণিংবডির সভাপতি, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে গভর্ণিংবডির অন্যতম সদস্য সাইদুল ইসলাম মান্না সরদারকে। এই কমিটিকে আগামি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে দাশুড়িয়া ডিগ্রী (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ আবদুুল কাদেরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কতিপয় শিক্ষক তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছেন। এ সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এ সব রটাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ