দায়িত্ব পালনে মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দিন || সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: মে ১৭, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

বুলবুল হাবিব


শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- সোনার দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। এইজন্য সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্টা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বুধবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জঙ্গি দমনের মতো মাদক নির্মূলেও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের পুলিশ যেমন জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে, তেমনি মাদক থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষায় সফল হবে বলে আমার বিশ্বাস। এইজন্য তিনি মাদক সেবনকারী, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, সরবরাহকারী সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশবাহিনীকে নির্দেশ দেন।
এইজন্য বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে এবং সারদা একাডেমিকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এইজন্য একাডেমি সংলগ্ন পদ্মা নদী তীরবর্তী অতিরিক্ত ১০০ একর খাস জমি বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে আপনাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। দেশে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বহির্বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে।
নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও আধুনিক ও দক্ষ হতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি, স্টাফ কলেজ নির্মাণ, টিফিন ভাতা, ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য ৫০ হাজার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ আমাদের জনসংখ্যা বেড়েছে। বর্ধিত জনগণকে সেবা দিতে পুলিশের ওপর বেশি চাপ পড়ছিল। তাই জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকি ভাতা দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ ভাতা দেওা হবে। এছাড়া নতুন নতুন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত শাখা শিল্প পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও নৌ পুলিশ করা হয়েছে। এছাড়া গার্ড ও প্রোটেকশন পুলিশ করার কথা ভাবা হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে ট্রাফিক পুলিশে নারী সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা, রেশন বৃদ্ধি ও উন্নত যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও নানা ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পুলিশবাহিনীকে আধুনিকায়নের সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় আইজিপি র‌্যাংক ব্যাজ প্রবর্তন করেছে। আমরা আর্মড পুলিশের জন্য ৩০টি ট্রেনিং সেন্টার করে দিয়েছি। এছাড়া আরও চারটি সেন্টার করার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সেবা চালু করেছি। যা জনগণকে সেবা দিয়ে সাহায্য করছে। আমরা চাই পুলিশের কাছ থেকে আমাদের জনগণ যথাযথ সেবা পাবে। এজন্য পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। প্রতিটি সেক্টরে আমাদের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা ক্ষমতায় আসার পর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশ্বে আমরা মাথা উঁঁচু করে চলবো। কারণ, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। অভিবাদন শেষে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনের জন্য তিনি শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান, পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমানসহ স্থানীয় সাংসদরা।
উল্লেখ্য, এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে এবছর ১৮ জন নারীসহ ১২৩ পুলিশ কর্মকর্তা তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করলেন।