দিনাজপুরে লোহার খনি আবিষ্কার এখন বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের অপেক্ষা

আপডেট: জুন ২০, ২০১৯, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)।
দীর্ঘ ২ মাস ধরে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ১৮ জুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জিএসবি’র কর্মকর্তারা। জয়পুরহাট বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি আনন্দ ও আশাজাগানিয়া তথ্য। যে কোনো খনিজ সম্পদের আবিষ্কার জাতির জন্য খুবই আশা-সঞ্চারি। উত্তরবঙ্গের জেলা শহর দিনাজপুরে এই খনিজ সম্পদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সুখবর।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ইসবপৃর গ্রামে ভূগর্ভের ১ হাজার ৭৫০ ফুট নিচে ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে। যা দেশের জন্য একটি ব্যতিক্রমি ঘটনা এবং বাংলাদেশে প্রথম আবিষ্কার। জিএসবি’র উপ-পরিচালক বলছেন, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে, সেসব খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। আর বাংলাদেশের লোহার মান ৬৫ শতাংশের উপরে।
ইসবপুরে লোহার খনি আবিষ্কার বাংলাদেশে এটিই প্রথম। যার ব্যাপ্তি রয়েছে ৬-১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত। এখানে কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। ১১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মেলে। বলি হচ্ছে-এ অঞ্চলে ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এ সন্ধান পাওয়া যায়।
যাহোক, দেশের মানুষ লৌহখনি আবিষ্কারের খবরে উদ্বেলিত, উৎসাহিত ও কৌতুহলী। এই খনির আকরিক লোহা উত্তোলন বাণিজ্যিকভাবে কতটা সম্ভব তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এটি নিশ্চিত করবে। প্রকৌশলীদের মতে আকরিক বাণিজ্যিক ভাবে উত্তোলন সম্ভব কিনা সেটা জানতে আরও ৫-৬ টা ড্রিলিঙের প্রয়োজন হবে। এছাড়া রিজার্ভের পরিমাণটা জানতে হবে, তা না হলে উত্তোলন অর্থনৈতিকভাবে সফল হবে কিনা সেটা বোঝা যাবে না।
তবে সম্ভবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, আশার সঞ্চার হয়েছে- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্ভাবনা নিশ্চিত হলে যে, দেশের অর্থনীতি নতুন মাত্রা যোগ হবে। বিশাল কর্মযঞ্জের সূটনা হবে। দিনাজপুর জেলাসহ াাশপাশের জেলার লোকেদের বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থাপনেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের লৌহ শিল্পও আরো বিকশিত হতে এবং তা বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের মানুষের সেই সুদিনের অপেক্ষা যেন প্রলম্বিত না হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ