দুর্গাপুরে আচরণবিধি লঙ্ঘন, পৌর মেয়র ও চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের কারাদণ্ড || অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও দুর্গাপুর প্রতিনিধি


দুর্গাপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়-সোনার দেশ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনসহ ১২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। কারাদণ্ড প্রদান করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ ও জজমৃত্র্য চাকমা। এ ঘটনার পর দুর্গাপুর উপজেলায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, দুর্গাপুর পৌর মেয়র তোফাজ্জল, দুর্গাপুরের ঝালুকা ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা মোজাহার আলী মণ্ডল, কাউন্সিলর সোহেল রানা, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মজনু, উপজেলা সৈনিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ, যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামন মনি, আ’লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু, রবিউল ইসলাম রবিন, ছাত্রলীগকর্মী শাকিল খান ও শিমুল। সাজপ্রাপ্তরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মজিদের সমর্থক। তাদের মধ্যে একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর আছেন। এর আগে দুপুর দেড়টায় দুর্গাপুর পৌরসভা কার্যালয় থেকে মেয়রসহ তাদেরকে আটক করে একটি ভ্রাম্যমাণ টিম।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ জানান, আজ রোববার উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে পৌর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ১০/১২জন নেতাকর্মীকে নিয়ে মিটিং করছিলেন। সেখানে তার ব্যবহৃত পিস্তল আটক করা হয়। এসময় সেখান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মজিদ সরদারের উপস্থিতিতে নগদ ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পরে বিকেলে সাজাপ্রাপ্তদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মজিদ সরদার দুর্গাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে গত কয়েকদিন আগে তিনি তার মনোনয়নপত্র ফিরে পান। মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যাপক মরিয়া হয়ে সংসহিতামূলক কার্যক্রম ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই তার পক্ষে থেকে সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করছিলো। তার সূত্র ধরে গতকাল দুপুরে তাদের অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন নজরুল ইসলাম।
তবে এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্য উপজেলায় যেখানে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন সেখানে এই এলাকায় ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। রয়েছেন একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জুলকার নায়ন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মজিদ মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় সহিংসতা ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি কয়েকদিন ধরেই ভোট কেন্দ্র দখল, জোরপূর্বক প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটারদের হুমকি প্রদানসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছিলেন। গতকালও তার কর্মী-সমর্থকরা সহিংসতার চেষ্টাকালে তাদের আটক করা হয়। এরপর ওই এলাকায় গতকাল বিকেল থেকেই একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা পুলিশদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। যারাই ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা কিংবা জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পর পরিস্থিতি বর্তমানে এখন শান্ত। ভোটগ্রহণও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ