দুর্গাপুরে এক যুগ পরে পাওয়া গেল পাবলিক লাইব্রেরির বই ও আসবাপত্রের সন্ধান

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৯, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

এস এম শাহাজামাল,দুর্গাপুর


দুর্গাপুরে ফিরে পাওয়া পাবলিক লাইব্রেরি ও আসবাবপত্র সোনার দেশ

রাজশাহী দুর্গাপুরে এক যুগ পরে পাবলিক লাইব্রেরির বই ও আসবাপপত্রর সন্ধান পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন সরকার নিজ দায়িত্বে লাইব্রেরির বই ও আসবাপপত্র উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হওয়া পাবলিক লাইব্রেরি উপজেলা প্রসাশনের উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি হিসাবে চালু করা হবে। তবে বইগুলো অফিসার্স ক্লাবের স্টোর রুমে ছিল। ব্যাপক পরিসরে গড়ে ওঠা পাবলিক লাইব্রেরি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যাপক পরিসরে গড়ে ওঠা পাবলিক লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে। উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মেধাবী ছাত্র মাহাবুবের একান্ত প্রচেষ্টা ১৯৯৮ সালে উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় লাইব্রেরিটি। প্রশাসন, কবি-সাহিত্যিক, উপন্যাসিক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক, শিল্পপতি ও শিক্ষিত কিছু যুবকের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দিন-রাত পরিশ্রম করে সবার নজর কাড়ার মতো উপজেলার অডিটোরিয়ামের দোতলায় একটি লাইব্রেরি গড়ে তোলেন মাহাবুব। মাহাবুবকে লাইব্রেরি গড়ে তোলার জন্য সে সময় প্রেরণা জুগিয়েছিলেন ও আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব মোল্লা, সহকারী কশিনার (ভূমি) সাইদুর রহমান, শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল হক, মুক্তিযোদ্ধা কবি-সাহিত্যিক আবদুস সামাদ, সমাজসেবক আহম্মেদ আকবর হোসেন হেনা, শিক্ষক আবু সাঈদ মন্ডল, বেকার শিক্ষিত যুবক জার্জিস হোসেন সোহেল, ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল হক টুলুসহ অনেকে। তবে মূল দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব মোল্লা ও সহকারী কশিনার (ভূমি) সাইদুর রহমান। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল এ পাবলিক লাইব্রেরিটি। তার পর মাহাবুব বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে উপ-পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করলে পরিচালনার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় লাইব্রেরিটি। সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলা অডিটোরিয়ামের দোতলায় পাবলিক লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা, কবি-সাহিত্যিক আবদুস সামাদ বলেন, মাহাবুব চলে যাওয়ার পর থেকে লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। লাইব্রেরিতে কত শিক্ষিত যুবক, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজে পড়–য়া ছাত্রছাত্রীরা আসত। তখন লাইব্রেরির রুমের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যেত। কেউ কবিতার বই, কেউবা কাব্য উপন্যাস, আবার কেউ খবরের কাগজ পড়ছে মন দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছর হলো তা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আবার লাইব্রেরিটি চালু করার দাবি জানান উপজেলার সাহিত্য অনুরাগীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন সরকার বলেন, আমার যোগদানের কয়েক দিন পর থেকে পাবলিক লাইব্রেরির খোঁজ করি। কিন্তু কেউ পাবলিক লাইব্রেরির সন্ধান দিতে পারে না। পরে স্থানীয় দুই সাংবাদিক আমাকে লাইব্রেরির সন্ধান দেন। পরে আমি বই ও লাইব্রেরির আসবাপত্রের সন্ধান পাই। গতকাল সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গুদামঘরগুলোর খোঁজ করি। পরে অফর্র্িাস ক্লাবের স্টোর রুমে লাইব্রেরির বই ও আসবাপত্র পাওয়া যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ