দুর্গাপুরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে প্রাণি সম্পদ দফতরের ভবন || ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

দুর্গপুরে প্রাণি সম্পদ দফতরের ভবনের ছাদ এভাবেই খসে পড়ছে -সোনার দেশ
এস এম শাহাজামাল, দুর্গাপুর
ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। একতলা ছাদ বিশিষ্ট এ ভবনেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করছেন প্রাণি সম্পদ দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারিরা। আশির দশকে নির্মিত ওই ভবণটিতে ঝুঁকিপূর্ণ হে পড়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান। উপজেলার প্রাণি সম্পদ কেন্দ্রটি জরুরী ভিত্তিতে পরিত্যক্ত করে নতুন করে নির্মাণ করা দরকার বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, আশির দশকে এলাকার প্রাণি সম্পদের উন্নয়নের জন্য গরু, ছাগল,হাঁস, মুরগীসহ সকল প্রাণির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রাণি সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ভবনটির ভগ্নদশা। ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পরে ২টি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবুও ওই কক্ষগুলোতে চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়েই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসারু, ছাগলসহ সব ধরনের গৃহপালিত পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন।
আমগ্রামের কামরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষরা তাদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগীসহ বিভিন্ন প্রাণী নিয়ে এসে এই কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়। দ্রুত এ ভবণের কাজ না করা হলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কেন্দ্রের ড্রেসার সাইদুর রহমান জানান, জীবনের ঝুঁকি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত প্রাণির চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। প্রাণি সম্পদের সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন করে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভবণটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। এ ভবনটি নিয়ে বেশ কয়েক বার কথা হয়েছে। আমি দ্রুত বিষয়টি নিয়ে উপরে কথা বলবো।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কেন্দ্রের ভবনটি জরুরী ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দুইতলা ভবন করার জন্য স্থানীয় এমপির মাধ্যমে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ ভবনটি পরির্দশন করেছি। ওই ভবনে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে অন্য ভবনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা লিটন সরকার বলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। অতিদ্রুত ভবণটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।