দুর্গাপুরে ১৯৩৫ সালে স্থাপিত স্কুল হঠাৎ করেই ১৯৫৫ করা হল!

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি


হঠাৎ করে রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার ৮২ বছরের পুরানো দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সাল পরিবর্তন করা নিয়ে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোনো আলোচনা ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম ৮২বছরের পুরাতন বিদ্যালয়টির স্থাপনের সাল পরিবর্তন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয় দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে ১৯৪০ সালে পড়াশোনা করেছে এমন ছাত্র এখনও জীবিত আছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে সন্তানরাও জীবিত আছেন। হঠাৎ করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক রাকিবুল ইসলাম স্থানীয় জনগণ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সভাপতিকে না জানিয়ে ১৯৩৫ সালে পুরাতন এই বিদ্যালয়ের সাল পরিবর্তন করে ১৯৫৫সাল লিখে নতুন সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছেন। এতে ৮২বছরের পুরাতন বিদ্যালয়ের মনগড়া ভাবে সাল পরিবর্তন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমানে তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের সহকারি অধ্যাপক আবু সাইদ জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত ১৯৩৫সালে। ৮২বছর পর হঠাৎ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাল পরিবর্তন করে ১৯৫৫ সাল দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছেন। তার একা নেয়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। আর এটা মেনেও নেয়া যায় না। তিনি বলেন, কিসের ভিত্তিতে তিনি হঠাৎ ৮২বছর পর পুরাতন এই বিদ্যালয়টির সাল পরিবর্তন করলেন স্থানীয়রা জানতে চায়।
ওই গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, দীর্ঘ ১৩বছর ধরে দেবীপুর সরকারি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব আছেন রাকিবুল। তিনি কারো কথা গ্রহণ করেন না। সে বিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের হিসাবসহ নানা অনিয়মের সাথে জড়িত। স্কুল আম বিক্রি থেকে শুরু করে গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্কুলে আসলেও সময়ের আগেই তিনি চলে যান। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম জানান, দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৩৫ সালে স্থাপিত হয়েছে কাগজপত্রে এটাও দেখেছি। আবার জমি রেজিস্ট্রির কাগজপত্রে ১৯৫৫ সাল লেখা আছে। আমার ধারণা এই বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে ১৯৫৫ সালে। কারণ বিদ্যালয়ের জমি রেজিস্ট্রির কাগজপত্র তাই বলে। তাই কিছুদিন পূর্বে ১৯৩৫ সালের পরির্বতে ১৯৫৫ সাল লেখা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের কোনো আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবদুুল আজিজ জানান, প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম কাগজপত্র দেখে ধারণা করেছেন বিদ্যালয়টি ১৯৫৫ সালে স্থাপিত হয়েছে। তাই তিনি ১৯৩৫ সালের পরির্বতে ১৯৫৫ সাল লিখে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়ার পরে বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছেন। এবিষয়ে স্থানীয়রাও আমাকে একাধিক বার বলেছেন।
জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। স্থানীয়রা যেহেতু অভিযোগ করছে, সে কারণে প্রধান শিক্ষক কিসের ভিত্তিতে ৮২বছরের পুরাতন এই বিদ্যালয়ের সাল পরিবর্তন করছেন তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।