দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু বাড়ছে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার এখনই সময়

আপডেট: জুন ১১, ২০১৯, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সড়ক দুর্ঘটনা সারা বছর জুড়ে আলোচনায় থাকে। সড়কের দুর্ঘটনা নিয়ে মাঝেমধ্যেই মাঠ-গরম হয়। স্থান বিশেষে সাময়িক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টিও হয়। দেশে দুর্ঘটনায় নিহত- আহতদের অধিকাংশই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার সর্বোচ্চ। আর্থিক ক্ষতির দিক থেকেও এটি সর্বোচ্চ।
সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে মোটরসাইকেল বা বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যুসংখ্যাও আশংকাজনক হারে বাড়ছেÑ যাদের অধিকাংশ তরুণ বা উঠতি-বয়সের যুবক। এটি নতুন উদ্বেগেরও সৃষ্টি করেছে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ঈদের তিন দিনের ছুটিতে- অর্থাৎ ৪ জনুÑ৬ জুন পর্যন্ত ২৫ জেলায় ৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ৫৮ প্রাণ। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তি। ওইসব দুর্ঘটনায় নিহত মোটর সাইকেল আরোহী রয়েছে ১৫ জন। যা ২৫ শতাংশের বেশি। ১১ জেলায় ১২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় এই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের সহযাত্রী হিসেবে আহত হয়েছে ১৩ জন। ঈদের দিন অর্থাৎ ৫ জুন সর্বোচ্চ ৭ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। ঈদের আগের দিন- ৪ জুন চারজন এবং পরের দিন ৬ জুন চারজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। নিহতদের সকলেই উঠতি বয়সের তরুণ।
এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বাসের সাথে মোটরসাইকেলের, মোটর সাইকেলের সাথে মোটরসাইকেল পাল্লা দেয়ার সময় এবং মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্থাপনা, গাছ কিংবা-পুকুর- ডোবায় পড়ে দিয়ে। ইদানিং মোটর সাইকেল চালানোর দক্ষতা বা প্রয়োজন কতটুকু তা বিবেচনা না করেই মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত পরিবারের অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের মোটরসাইকেলের আবদার পূরণ করছেন। কিন্তু তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবছেন না যে, তাদের এই আবদার পূরণ করতে সন্তানদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন কি না।
মোটরসাইকেল চালানোর সময় অধিকাংশই তরুণ নিজেদের হিরোইজমে ভুগেন। বেপরোয়া গাড়ি চালাতে মোটেও কসুর করে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের ক্ষতি যেমন হয় তেমনি পথচারীদের সর্বনাশ ডেকে আনে।
মোটর সাইকেলে করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ লক্ষ্য করা যায়। শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী মোটরসাইকেলের আরোহীÑ সংখ্যা চারজন পর্যন্ত হয়। লম্বা রাস্তাতেও পরিবার সমেত পরিভ্রমণে দেখা যায়। এরা মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এ ধরনের ভ্রমণের চরম মূল্য দিতে হয়েছে দেশের অসংখ্য জনদের। সড়ক দুর্ঘটনায় বাইক আরোহী স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা কম নয়। তরুণদের বেপরোয়া বাইক চালানোর প্রবণতাও ব্যাপক। এরা সড়কে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্কও সৃষ্টি করে, কখনোও বা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। তবুও এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে বাইক চলাচল বাড়ছে বৈ কমছে না। এ ধরনের চলাচল নিরুৎসাহিত করার তেমন কোনো উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায় না। পুলিশের ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলেও সপ্তান্তে তা আবার আগের মতই হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার এখনই উপযোগী সময়। সরকার যখন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানামূখি কর্মসূটি গ্রহণ করেছে। মোটর সাইকেল চালনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধি-নিষেধ যা বিদ্যমান তার যথাযথ প্রয়োগ করা। একই সাথে সচেতনাতামূলক কর্মসূচিও থাকা বাঞ্ছনীয়। মোটর সাইকেলের অপব্যবহার- তা গতি কিংবা অতিপরিবহণের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ