দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট আ’লীগকে হাইব্রিডমুক্ত করতেই হবে

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৯, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ অভিযানে কে দলের, কে কী বা কে আমার আত্মীয়-পরিবার এসব আমি দেখতে চাই না। অভিযান অব্যাহত থাকবেই।
সম্প্রতি ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারটি দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করেছে।
ওই সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রত্যয়টিও ব্যক্ত হয়েছে তাঁর বক্তব্যে। অর্থাৎ শুদ্ধি অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দ্বি-দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপের অজুহাত সৃষ্টিরও কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর যখন বলছেন, এখানে (দুর্নীতিবিরোধী অভিযান) আমার দলের কে কী, সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয়-পরিবার দেখতে চাই না, বিত্তশালী কেউ আছে কি-না -এটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবেইÑ তখন পেছনে ফিরে দেখার আর কোনো সুযোগ নেই। এই শুদ্ধি অভিযানের শেষ হবে সেখানে গিয়ে- যেখানে দুর্নীতিবাজদের জন্য এ দেশ আর বসবাসের উপযোগী হবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই সুচিন্তিতভাবে এবং এই শুদ্ধি অভিযানের ভালো-মন্দ দিক বিবেচনায় নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি সচেতনভাবেইভাবেই এই অভিযানে রিস্কের কথা বলেছেন। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাউকে না কউকে তো উদ্যোগ নিতেই হবে। না হলে দেশ দুর্নীতিতে এমন ভাবে নিমজ্জিত হয়েছে যে, শ্বাস নেয়ার অবকাশটুকু পর্যন্ত নেই। আর এই রিস্ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা ছাড়া আর কেই বা নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। দেশবাসীর সমর্থন আছে। বরং দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্তের প্রত্যাশ্যাই করছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্ত করা গেলে দেশ যে আরো উন্নত হতো এবং সমাজের বৈষম্য দূর হতোÑ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে আমরাও একমত।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের সাথে সাথে দেশের ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যেও শুদ্ধি অভিযান খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। দলের দুর্নীতিবাজ নেতা এবং দলে হাইব্রিডদের অবস্থান থাকলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে সফল পরিণতি দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ দুর্নীতিবাজ নেতা ও হাইব্রিড নেতাকর্মিরাই বড় রিস্ক-ফ্যাকটর হিসেবে দলে অবস্থান করছে। দল থেকে এদের বিতাড়িত করে পোড়খাওয়া নিষ্ঠাবান ও সৎ রাজনীতিকদের হাতে ইউনিটসমূহের নেতৃত্ব দিতে হবে। তবেই অন্য রিস্কগুলোকে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। দেশের মানুষ দুর্নীতির শেকড় উৎপাটন চায়, দুর্নীতিবাজদের বিচার চায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ