দুর্নীতি অভিযোগে কারা কর্মকর্তা গ্রেফতার রাঘব-বোয়ালদেরও ধরতে হবে

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সামরিক স্বৈরাচারগণ অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের পর সকলেই একই ভাষায় কথা বলেন এবং অনেকটা একই প্রক্রিয়ায় ক্রমশ রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন। সামরিক স্বৈরশাসকদের মতই বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও একই ভাষায় কথা বলেন। দুনীতিবাজ কর্মকর্তাদের শ্বশুর- শাশুড়িরা বেজায় ধনী হন। এই কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে কাড়ি কাড়ি অর্থের যোগান পেয়ে থাকেন। বাস্তবিক ক্ষেত্রেও অনেক কর্মকর্তা শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রী শ্যালক-শ্যালিকাদের নামেও সম্পত্তি করে রাখেন যাতে সরকারের রাজস্ব বিভাগ কিংবা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজর এড়ানো যায়। খুবই পুরাতন কৌশল, পুরানো কর্মকা-, পুরানো ভাষা।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) পার্থ গোপাল বণিকের বাসা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা ৮০ লক্ষ টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করেছেন। ২৯ জুলাই জনাব বণিককে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
জামিন শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে পার্থ গোপাল বণিকও আদালতকে বলেছেন, ওই টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন করা নয়। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা তার আয়কর বিবরণীতে নগদ হিসেবে প্রদর্শিত। বাকি টাকা ফ্ল্যাট কেনার জন্য তার মা ও শাশুড়ি দিয়েছেন।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ফেনসিডিলসহ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রামের তখনকার জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। সেসময় তিনি গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ঘুষ বাণিজ্যের পেছনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সেখানকার তৎকালীন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের নাম বলেন।
ওই তথ্যের সূত্র ধরে দুদকের অনুসন্ধানী টিম সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে পার্থ গোপালকে ২৮ জুলাই ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে নিয়ে তার ধানম-ির নর্থ রোডের (ভূতেরগলি) ২৭-২৮/১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করার পাশাপাশি তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
ওই ৮০ লাখ টাকা বৈধই যদি হবে তা হলে টাকা পাশের বাড়ির ছাদে ফেলে দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা হয়েছিল কেন? জনাব বণিকের স্ত্রী নিজ গৃহ অবস্থান করেও দুদক কর্মকর্তাকে ভুল তথ্য দিয়ে বার বার বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত জনাব বণিকের স্ত্রীকে তার নিজ বাড়িতেই পাওয়া যায় এবং তিনি ওই অর্থ পাশের বাড়ির ছাদে ফেলে দেন। এসব কিছু আটক অর্থের বৈধতার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নিশ্চয় দুদক কর্মকর্তারা তাদের মামালার বা অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবেন আদালতে। দোষি সাব্যস্ত হলে জনাব বণিক শাস্তি পাবেন।
দুদক এর সাম্প্রতিক অভিযান দেশবাসীর নজর কাড়ছে। আশান্বিত হওয়াই যায় যে, দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর একটি ভূমিকা রাখতে পারবে। দুর্নীতি দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে, দরিদ্র মানুষকে বঞ্চিত করছে। দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। তবে দুর্নীতিবাজ রাঘব- বোয়ালদের কাছে পৌছতে পারে নি দুদক। সময় এসেছে রাঘব- বোয়ালদের ধরে আইনের আওতায় আনার। এরাই দেশটাকে ঘুণে পোকার মত কুরে কুরে খাচ্ছে- অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনটাই এখন খুব বেশি প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ