দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযান গতি যেন থেমে না যায়

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ- নিন্দা অব্যাহত আছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের বিষয়টি অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। তার মানে এই নয় যে, দেশের মানুষ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। বরং দেশবাসী মনে করে রাজনীতির মধ্যে দুর্বৃত্তের নেতৃত্ব এবং তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তির ফলস্বরূপ এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের সর্বত্র প্রতিফলিত হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ই হলো দুর্বৃত্তমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা। বিষয়টি যদিও খুব সহজ ব্যাপার নয়- তবুও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দুর্বৃত্তমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ।
শুদ্ধি অভিযান যেভাবে গতি পেয়েছিল তা একটু মন্থর হয়েছে। যদিও শুক্রবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এক বাসা থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করে র‌্যাব।
সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী কাউন্সিল মিজান ভারতে পালাতে চাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে। একই দিন অভিযানে কাউন্সিলর মিজানের বাসা থেকে ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক এবং ১ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র পায় র‌্যাব। সেই সঙ্গে আমেরিকার টেক্সাস ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দুটি বাড়ি এবং আমেরিকার একটি বিলাসবহুল গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করে র‌্যাব। এ সংক্রান্ত খবর দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। কাউন্সির মিজান অতিসাধারণ থেকে হঠাৎ করেই প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক বনে যায়Ñ যা তার আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অবৈধ উপায়ে কাউািন্সলর মিজানের মত অনেকেই আছেন দেশে। এরা ‘জিরো থেকে হিরো’ হয়েছেন নিজেদের শাক্তি-সামর্থের কারণে নয়Ñ তাদের খুঁটির জোর অন্যত্র। দেশের মানুষের প্রত্যাশা ওই জায়গায়- যে খুঁটির বলে সারা দেশে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে। ওদের কেহই এখন পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আসে নি। তারা নেপথ্যেই রয়ে গেছে। এরা যদি পার পেয়ে যায় তা হলে শুদ্ধি অভিযানের জনমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে না। নেপথ্যে থেকে যারা ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে কিংবা ক্যাসিনো চালাতে সহযোগিতা দিয়েছে এবং অবৈধ অর্থ-সম্পদের মালিক বনেছে তাদেরকে আইনের আওতায় দেখতে চায় দেশের মানুষ। কেননা ওরা যতদিন আইনের বাইরে থেকে ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করবে ততদিন দেশের দুর্বৃত্তায়নের ধারার গতিরোধ করা সম্ভব হবে না। আর শুধু রাজধানী ঢাকাভিত্তিক নয়Ñ শুদ্ধি অভিযান জেলা পর্যায়েও পরিচালিত হতে হবে। দুর্বৃত্তরা দেশের সর্বত্র নেতৃত্ব ও ক্ষমতায় আসীন আছে। শুদ্ধি অভিযানে এবারে ওই সব নেপথ্যের ভিলেনরা বেরিয়ে আসুক এবং তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা হোক এটা দেশবাসীর প্রত্যাশা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান- দেশের মানুষের আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। দেশের মানুষ এটাও বিশ্বাস করে যে, দুর্বৃৃত্তায়নের দৈত্যকে কেবল মাননয়ীয় প্রধানমন্ত্রীই বিনাশ করতে পারবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ