দেশরত্ন আসছেন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজশাহী আসছেন। দেশরত্ন আসছেন, তাই জাগরণ দিকে দিকে, চারিদিকে। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এই উচ্ছ্বাস রাজশাহী মহানগরী ছাড়িয়ে গ্রামের তৃণমূলে ঢেউ তুলেছে। উচ্ছ্বাসের ঢেউ রাজশাহী বিভাগের জেলায় জেলায় গণমানুষের হৃদয় কিণারায় আছড়ে পড়ছে। সর্বত্রই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ, জয়ধ্বনী, গণতন্ত্রের মানস কন্যা রাজশাহী আসছে।
তিনি সেই সরকার প্রধান যিঁনি তৃণমূল মানুষের শরীরের ঘামের গন্ধ মাখেন, আকুল হন পরম ¯্নহে-ভালবাসায়, তাদের দুঃখে কাদেন, সহযোগিতায় সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে পীড়িত মানুষের সঙ্গী হন। কঠোরে কোমলে তিনি যে অনন্য!
রাজশাহীবাসীর মধ্যে কৌতুহল, বুক ভরা প্রত্যাশা- প্রধানমন্ত্রী আসছেন রাজশাহীর উন্নয়নের বার্তা নিয়ে। সমালোচকরাও উৎসুক- কৌতুহলী প্রধানমন্ত্রী জনসমাবেশে কী বলবেন? প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রভাব সর্বত্র।
প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অপর ছয়টি বাস্তবায়িত প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক বৃহত্তম।
নগরীর নবীনগর এলাকায় ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর প্রায় ২৮১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মিত হচ্ছে। এতে প্রায় ১৪ হাজার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চারটি উপজেলায় ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মিত হবে। অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবন, নদীর তীর সুরক্ষা বাঁধ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল ও দুটি আবাসিক এলাকার উন্নয়ন। সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রকৌশল, স্বাস্থ্য প্রকৌশল, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের আওতায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে।
বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আপ-গ্রেডেশন, নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ছয়তলা ভবন এবং বাগমারা উপজেলা পরিষদ ভবনের সম্প্রসারণ ও হলরুম নির্মাণ।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে রাজশাহী প্রস্তুত
আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত রাজশাহী। রাজশাহী যেন উৎসবের রঙে সেজেছে। জনসভা এলাকা ও সভাস্থলের আশেপাশে রাস্তাগুলোতে সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে ব্যানারে-ব্যানারে ছেয়ে গেছে নগরীসহ এর উপকন্ঠ কাটাখালীর হরিয়ান এলাকা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্ঘুম দিন পার করছেন। জনসভা সফল করতে নেতৃবৃন্দ আলোচনা, সভা, প্রচার মিছিল বর্ধিত সভা করেছে। শুধু তাই নয় এ জনসভার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন এবং বিভাগেন অন্যসব জেলায়।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নগরীর উপকণ্ঠ হরিয়ান সুগার মিলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভাস্থল প্রায় প্রস্তুত। ইতোমধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী।
প্রধানমন্ত্রী হরিয়ান চিনিকল মাঠের জনসভার আগে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমি সারদায় শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
শান্তির দূত শেখ হাসিনা
শান্তির দূত শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রমের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কান্ডারিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। এর ফলে দেশে মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসনের পথ প্রশস্ত হয়।
২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের এই অধিবেশনে তিনি নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অসাধারন অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ‘প্লানেট ৫০- ৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে জাতিসংঘ উইমেন স্বীকৃতি অর্জন করেন।
২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনেও তিনি দুটি পুরস্ক‹ারে ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আর্র্ন্তজাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘ আইসিটি টেকসই’ উন্নয়ন পুরষ্কার লাভ করেন শেখ হাসিনা।
এর আগে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ‘সাউথ সাউথ’ ও ‘সেরেস’ পদকসহ অন্যান্য পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেস্কো থেকে ‘ শান্তির বৃক্ষ (ট্রি অব পিস) অভিধায়ও সিক্ত হন।
১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ওই বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
পরবর্তিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
শেখ হাসিনা তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন নতুন ভূমিকায়। সাম্প্রদায়িকতা উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবনদৃষ্টি তাঁকে করে তুলেছে এক আধুনিক, অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কে। একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় তিনি দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কান্ডারি। এই অভিযাত্রায় তিনি বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসাস্থল।
শত ব্যস্ততার মাঝেও শেখ হাসিনা সাহিত্য চর্চা ও সৃজনশীল লেখায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম’ ‘আমার পিতা শেথ মুজিব’ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।