দেশের খবর, দিনাজপুর দিনাজপুরে দেশের প্রথম উটপাখির বাণিজ্যিক খামার

আপডেট: মার্চ ১৯, ২০১৮, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গড়ে উঠেছে উটপাখির খামার। সম্ভবত দেশে এটিই প্রথম উটপাখির কোনো বাণিজ্যিক খামার। স্থানীয় আরজুমান আরা বেগম দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাচ্চা আনিয়ে গড়ে তুলেছেন এ খামার। খামার দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করছে।
২০১৬ সালে মালয়েশিয়া থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর আরজুমান আরা বেগম নবাবগঞ্জ উপজেলার মালিপাড়া গ্রামে পৈতৃক সাত বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন ইকো এগ্রো ফার্ম নামে একটি খামার। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে উটপাখির খামার। বর্তমানে সেখানে পাঁচ মাস বয়সী ১৫টি উটপাখি রয়েছে। প্রতিটির ওজন হয়েছে ৫০-৬০ কেজি।
নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পনঘাট গ্রামের আরজুমান আরা বেগম নওগাঁর আব্দুস সান্নানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ২০১৪ সালে সপরিবারে পাড়ি জমান মালয়েশিয়া। সেখান থেকে নেপালে বেড়াতে গিয়ে উটপাখির খামার দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আরজুমান আরা বলেন, দেশে এসে ইন্টারনেটে বিভিন্ন দেশের উটপাখির খামার দেখি। পরে আমাদের দেশের এক আমদানিকারকের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২০টি একদিনের বাচ্চা আনিয়ে ২০১৬ সালের অক্টোবরের দিকে খামার গড়ে তুলেছি। দুটি বাচ্চা মারা গেছে, এখন ১৫টি উটপাখি রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম যখন উটপাখির খামার গড়ে তুলি তখন একটা ঝুঁকিপূর্ণ সময় ছিল, সেটি আমি পার করেছি। ফলে এখন মোটামুটি সাকসেস বলতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকার যেখান থেকে বাচ্চাগুলো আনিয়েছিলাম, সেখানকার একটি টিম আমার খামারে এসেছিল। তারা আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়ে গেছে। খামার পরিচর্যাকারী জানান, উটপাখি পালনে তেমন বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। এগুলো শান্ত স্বভাবের প্রাণী। মাঝেমধ্যে গোসল করিয়ে দিতে হয় এবং দৌড়িয়ে নিতে হয়। এগুলো পোলট্রি ফিড, লতাপাতা ও শাকসবজি খায়। একটি উটপাখি দুই বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। এরা বছরে ৫০-৭০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ওজন হয় ১৫০-২০০ কেজি পর্যন্ত।
উটপাখির বাণিজ্যিক খামারের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরজুমান আরা বলেন, দেশে যেমন গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা যাবে, তেমনি বিদেশে এর মাংস, চামড়া, হাড় ও পালকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকার কয়েকটি হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও রফতানিকারকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসিরুল ইসলাম বলেন, এমন খামার বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। এ পাখি দ্রুত বর্ধনশীল। এটাকে ঠিকভাবে পালন করা গেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।