দেশের প্রতিটি সেক্টরে অভাবিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে : লিটন

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৮, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গণতন্ত্র রক্ষা দিবসের সমাবেশে বক্তব্য দেন নগর আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সোনার দেশ

আওয়ামী লীগের মহানগর শাখার সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওইদিন নির্বাচন না হলে দেশ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যেত। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন দিয়ে দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এবং দেশে গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টায় গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে খায়রুজ্জামান লিটন এ কথা বলেন। নগরীর কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে সামনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এর উদ্যোগে এ অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত হওয়ার জন্যেই দেশ আজ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশের মানুষ আজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। আগামি নির্বাচনে তার দলকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক নাঈমুল হুদা রানা, উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, সদস্য আহ্সানুল হক পিন্টু, নগর যুবলীগের সহ-সভাপতি মোখলেসুর রহমান, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কানিজ ফাতেমা মিতু।
উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবুল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. এফ এম এ জাহিদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, উপ-দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দোলন, সদস্য এনামুল হক কলিন্স, আতিকুর রহমান কালু, হাফিজুর রহমান বাবু, মকিদুজ্জামান জুরাত, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, মতিহার থানা আওয়ামী লীগ আলাউদ্দিন, শাহ্মখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত আলী শাহু, নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য বিএনপি-জামায়াত যে ষড়যন্ত্র করেছিল তা নস্যাৎ করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হয়েছিল। সেই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন যদি না হতো তাহলে দেশে আবারো খুনি জিয়ার আদলে সামরিক শাসন জারি হতো। দেশের মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে আবারো সামরিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতো। বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল স্তরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ও আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
জেলা আওয়ামী লীগ : গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল আনন্দ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান রবু, এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ।তিনি বলেন, বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী, জঙ্গী ও মিথ্যাবাদী সংগঠন তা পরিষ্কার করেছেন ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে সারা দেশে পেট্রোল বোমা, বাসে আগুন দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। সেইদিন গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিলে গণতন্ত্রের বিজয় হবে এবং সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আওয়ামী লীগ সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। ৫ জানুয়ারির বিজয় আর্জনের পর বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং দেশরতœ শেখ হসিনা তার কথা রেখেছেন। সংগত কারনে আগামি নির্বাচনেও দেশরতœ শেখ হাসিনাকে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের মিথ্যাচারের উচিত জবাব দেওয়ার আহবান জানান তিনি। মিথ্যাচার করে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কিন্তু জনগণ কখনই এই মিথ্যাচারী দলকে ক্ষমতা দেখতে চায় না। আওয়ামী লীগ লড়াই সংগ্রামের দল, সে কখনই জনগণ হতে বিচ্ছিন্ন হবে না। জনগণের উন্নয়ন এবং দেশের কল্যাণই এই দলের একমাত্র কাজ। জনগণকে ধোকা দেওয়া এবং নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বিএনপির মত দল সকল কিছু করতে পারে। এই দলকে বিদেশের আদালত সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, এই দলের কাছে বাংলার মানুষ কি আশা করতে পারে ? সেই সন্ত্রাসী ও মিথ্যাচারী দল থেকে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে এবং জনগণকে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান তিনি।
পথসভায় আরোও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আসাদুজ্জামান আসাদ, আহসানুল হক মাসুদ, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ খাঁন, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক এএইচএম খালেদ ওয়াসি কেটু, জেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন ডাবলু, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক শমন্ত জামান খান, এ্যাড. এহেশাম আহমেদ শাহিন, সদস্য আমানুল হাসান দুদু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. পূর্নিমা ভট্ট, তাঁতী লীগের সভাপতি টুটুল, নওহাটা পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান, জেলা যুবলীগ নেতা রঞ্জু, মানিক, সেন্টু, মোস্তাক, পিন্টু, রফিক, পবা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তফিক জুলফিকার, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল সরকার, শহিদুর ইসলাম, জেলা মহিলা লীগ নেতা চপলা, ফাহিমা বেগম, জেলা কৃষক লীগ নেতা আবুল হোসেনসহ জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।