দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০১৯, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনেই সফরে থাকাকালে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় মারা গেছে তার ফুপাত ভাই আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজুলল করিম সেলিমের নাতি ৮ বছরের জায়ান চৌধুরী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিমানবন্দরে নেমেই শেখ সেলিমকে ধরে কেঁদে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি

ব্রুনেইতে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ব্রুনেইয়ের স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৩টায় রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানের ব্রুনেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে দেশের পথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান ব্রুনেইয়ের প্রাইমারি রিসোর্স ও পর্যটন মন্ত্রী আলি বিন আপং এবং ব্রুনেইয়ে বাংলাদেশের হাই কমিশনার মাহমুদ হোসাইন।
ব্রুনেই সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই এবং কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ দিতে কূটনৈতিক নোট বিনিময় হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার দুপুরে ব্রুনেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওই দিন বিকালে প্রবাসীদের দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন তিনি।
সোমবার সুলতান বলকিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সই হওয়া সমঝোতাগুলো হয়েছে কৃষি, মৎস্য সম্পদ, প্রাণিসম্পদ, শিল্প ও সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে।
বলকিয়ার সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমানের চেরাদি লায়লা কেনচানায় রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মিলিত হন শেখ হাসিনা।
ওই দিন সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুলতানের সরকারি বাসভবনে পৌঁছালে সুলতান বলকিয়া ও যুবরাজ হাজী আল মুহতাদি বিল্লাহ তাকে প্রটোকল ভেঙে স্বাগত জানান।
দুপুরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের ফোরামে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালে ব্রুনেইয়ের জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন এবং সেখানে আসরের নামাজ আদায় করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে ব্রুনেইয়ের রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা জালান কেবাংসানে বাংলাদেশ হাই কমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিস্থাপন এবং রয়েল রেজালিয়া জাদুঘর পরিদর্শন করেন শেখ হাসিনা।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হন।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খানও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিনও ছিলেন এই সফরে।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রুনেই সফর করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ