দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক মানবিক উন্নয়নের চর্চাটা খুবই জরুরি

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

দেশে শিশু নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শিশুর মুক্ত চলাচল দিন দিন খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। উদ্বেগের আরো ভয়ঙ্কর দিকটি হলো শিশুরা তাদেন খুব কাছের মানুষের দ্বারা নির্যাতিত, ধর্ষণ, এমনকি হত্যার সম্মুখিন হচ্ছে। এই অসহনীয় পরি¯িস্থতি থেকে মুক্তির কী উপায় সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২০১৮ সালে শিশু নির্যাতনের তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে যে চিত্র উপস্থাপন করেছে তা রীতিমত ভয়ঙ্কর, বিবেকবান যে কেউ শিউরে না ওঠে পারেন না। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত আছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়ার মোট ৩৪৫টি সংবাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৩৫৬, যার মধ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং আহত হয়েছে ৩৩৪ জন।
প্রকাশিত খবরগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় শিশুরা প্রতিবেশী, উত্যক্তকারী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে উত্যক্তকারী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১০ জন আর প্রতিবেশী দ্বারা ১০২ জন। দলগতধর্ষণের শিকার ৩৭ জন, শিক্ষক দ্বারা ১৭ জন।
তবে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ধর্ষণ সংক্রান্ত সংবাদ সংখ্যা ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়া গত বছর ৫৩টি শিশু ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে যাদের প্রত্যেকেই আহত হয়েছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে শিশু নির্যাতনেরও প্রতিবেদন পেশ করেছে। এ তথ্যও সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এ প্রতিবেদনের তথ্যও আশাপ্রদ কিছু নয়। বরং হৃদয় ভেঙ্গে যওয়ার মতই যত ঘটনা। মূল্যবোধের সবচেয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা আছি বলেই মনে হয়। চলতি বছরের ৬ মাসে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে বলে জানাচ্ছে ওই বেসরকারি সংস্থা। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মোট ১৬জন শিশু মারা গেছে।
এখন এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী? কোন পথ অবলম্বন করলে এর সমাধান মিলবে। কেননা সমাধানটা খুবই জরুরি যে, এটিকে এভাবে চলতে দিতেই থাকলে সমাজটা একেবারে বর্বর হয়ে যাবে। শিশু নির্যাতনের মনস্তাত্বিক কারণ গুলো অনুসন্ধান করে দেখা দরকার। অভিভাবক, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক, প্রতিবেশি, উত্ত্যক্তকারী আমরা সবাই একই সূত্রে বাধা পড়েছি। কেহই শিশুর জন্য নিরাপদ পরিগণিত হচ্ছে না। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত নরকময় করে তুলছি। তাহলে কি নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্র, সবাজ পরিবার আমরা কেউ ভাবছি না? সবাই আমরা এতো বেশি বৈষয়িক হয়ে গেছি যে, শুধু অর্থের পিছনের ছুটে চলাকেই মহত্ম্যের (!) কাজ মনে করছি। কিন্তু আখেরে ফল যে ভাল দিচ্ছে না।
ঢাকায় জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহিরিন জাতি হিসেবে আমাদের সেই দৈন্যতাকেই দায়ি করেছেন। তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ষণের হাত থেকে শিশুদের রক্ষার জন্যে প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই।’ আমাদের সবদিকেই উন্নতি হচ্ছেÑ কিন্তু মানবিক-মূল্যবোধের উন্নতিতে পিছিয়ে পড়লে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হবে না। মানবিক উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়নটা অধরাই থেকে যাবে। বিষয়টি জাতীয় চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ