দেশে ৪ কোটি ৫৮ লাখ বেকার স্থিতিশীলতার জন্যই কর্মসংস্থান জরুরি

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত নন ৪ কোটি ৫৮ লাখ এবং একেবারে বেকার জনসংখ্যা ২৭ লাখ। সোমবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের এমপি ইসরাফিল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, দেশে ১৫ বছরের নিচের জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩০.৮ শতাংশ, ১৫-৬৪ বছরের মানুষ আছেন ৬৪.৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছরের উপরের বয়সী আছেন ৪.৬ শতাংশ। কর্মে অক্ষম জনসংখ্যা পরিসংখ্যান ব্যুরো নির্ণয় না করলেও লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১০-১৭ অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিত লোকের সংখ্যা ৬ কোটি ৮০ লাখ। যারা কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নন এমন মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৫৮ লাখ।
বেকারের এই সংখ্যা মোটেই সহনীয় পর্যায়ের বলা যায় না। বরং এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মহীনতা একটি জাতীয় সমস্যা। দেশের ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম, অথচ এই এই সংখ্যার একটা বড় অংশ বেকার। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান সরকার যে বৃহৎ বাজেট প্রস্তাবনা করেছে, সেই বাজেট বাস্তবায়নে এই বেকারদের কর্মস্থান সৃষ্টি করাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
সমাজের মধ্যে নিরব কিছু অস্থিরতা কাজ করে। এসব অস্থিরতা কখনো কখনো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে সমাজজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে। একজন বেকারের কর্মস্থান বিলম্বিত হলে সে যে কোনো মুহূর্তে সমাজচ্যূত হতে পারে। এই শ্রেণির মানুষ খুব সহজেই অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে। কেননা বেকারত্ব এমনই এক সঙ্কট যা একজন বেকার মানুষকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর এই বিচ্ছিন্নবোধ ওই মানুষকে কোনো আশার বা স্বপ্নের উদ্রেক করে না। এক পর্যায়ে সমাজকেও সে নিজের মনে করে না। আর এ ধরনের অবস্থা পরিবার কিংবা সমাজের কোনো কল্যাণতো বয়েই আনেই না বরং সমাজকে নানাভাবে অস্থির করে তোলে। এ ক্ষেত্রে আমরা মাদকের যচ্ছেতাই ব্যবহারকে উদাহরণ মানতে পারি। দেশে মাদক এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মাদকের বাহুল্যতায় তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে, একই সাথে সমাজে অপরাধ-অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে সরকারকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত করতে হচ্ছে এবং সরকার মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে।
পরিস্থিতির নিরিখেই সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মাদকবিরোধেী অভিযান চালাচ্ছে। এতে সাময়িক কিছু ফল পাওয়া যাবে বটে তবে এই অভিযানের ফলে টেকসই সমাধান আসবে না। এর জন্য অব্যাহতভাবে সামাজিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে, আবার সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নিতে হবে।
বেকার জনগোষ্ঠিকে কর্মস্থানের আওতার মধ্যে কার্যকর উদ্যোগটাও নিতে হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে বেকার সমস্যার স্বরূপ উদঘাটন করে সমস্যার আশু সমাধান বের করতে হবে। এর জন্য নতুন কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং স্বউদ্যোগের প্রতি উৎসাহিত করার কর্মসূচি থাকতে হবে। কর্মসূচি যাও আছে তা দুর্নীতি এ ক্ষেত্রে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আছে। এ বিষয়টিকেই যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করতে হবে। দুর্নীতি যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা স্বউদ্যোগ তৈরির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ