দৈনিক ‘সোনার দেশ’ পত্রিকা প্রসঙ্গে

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৮, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

তসিকুল ইসলাম রাজা


এক.
আমরা জানি, সংবাদপত্র বিশ্বদর্পণ। এই সংবাদপত্রই সর্বত্র প্রথম আমাদেরকে দেশ ও বিদেশের সব বিষয়েই সব খবর বা ঘটনা সকাল বেলাতেই অবহিত বা অবগত করে। আয়নায় যেমন নিজের চেহারা দেখা যায় তেমনি সংবাদপত্রের আয়নায় বা দর্পণে আমরা সবকিছুই দেখতে পাই এবং সব জেনে যায় আর এই জানাজানির বিষয়টি প্রিন্ট মিডিয়ার কল্যাণে সমগ্র পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। আর সে জন্যই আমাদের জীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। বলা হয়ে থাকে যে, “The news paper is a daily necessary article” মানব সভ্যতা বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষা সংস্কৃতি ছাড়া ও দেশ-বিদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিজ্ঞান বাণিজ্য, সাহিত্য, ইতিহাস ঐতিহ্য, ক্রীড়া, বিনোদন সর্বত্রই কার্যকর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। বর্তমান সভ্যজগতে সর্বস্তরের মানুষের জীবনে সংবাদপত্র নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। সংবাদপত্রকে এজন্যই A newapaper is a store-house of knowledge’ বলা হয়। মোট কথা, দেশ প্রেম ও মানব প্রেমের প্রেক্ষিতে জাতির বিবেক গঠনে বা জাতিকে সর্বদাই সজাগ বা সচেতন রাখার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের ভূমিকার কথা সর্বজন বিদিত। সমাজ ও সভ্যতা বিনির্মাণে দেশ ও জাতির জীবনে রাজধানী কেন্দ্রিক হোক অথবা আঞ্চলিক পর্যায়ে হোক-আমাদের জীবন ও মনন জিজ্ঞাসার প্রধানতম মাধ্যম হিসেবে ‘সংবাদপত্রকে জনগণের পার্লামেন্ট’ রূপেও বিবেচনা করা হয়। এর ফলে, সংবাদপত্র জনগণের জীবনে সর্বদাই অতন্দ্র প্রহরীর মতোই কাজ করে।
দুই.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহিদের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি মহামানব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে আমরা সর্বদাই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। বিশেষত একথা অনস্বীকার্য যে তাঁর জন্ম না হলে হয়তো বা কখনই এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হতো না। তাঁর মহৎ জীবন দর্শন ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়েই জাতি তার শিকড় সন্ধানের আলোকে নিজেদের নতুন ভাবে আবিষ্কার করেছে। এবং সে সঙ্গে নিজেদের অর্থাৎ বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন এবং চিরদিন বিদ্রোহী মনোভাব ও প্রতিবাদী, প্রতিরোধী চিন্তা-চেতনার আলোকে আমাদের আলোকিত জীবনের পথ নির্দেশনা দান করেছেন তিনি। তিনি আমাদের প্রচণ্ড উত্তাপ নিয়ে অন্যায় ও সমস্ত অবিচারের বিরুদ্ধে সর্বদাই তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
আর তারই অনুজসম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্থপতি জাতীয় চার নেতার একজন আমাদের রাজশাহীর গর্বিত সন্তান শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ভূমিকাও আকাশচুম্বি। দীর্ঘ নয় মাস মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, অস্ত্র প্রদান, ট্রেনিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ, খাদ্য-বস্ত্র, চিকিৎসাসহ এক কোটি শরণার্থীকে তিনি দেখভাল করেছেন। আর এই মহৎ কাজে তাঁর নিরলস শ্রম ও সাধনার কথা-চিরদিন বাঙালির ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মতোই রাজশাহীবাসীকে জাগরণের জন্য জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান বিশেষত ষাটের দশকে রাজশাহীর জনজীবনে সর্বপ্রথম অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সংবাদপত্রের ভূমিকার কথা উপলব্ধি করেছেন। তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে অতীব কম সময়ের মধ্যে রাজশাহীসহ দেশ-বিদেশে যাবতীয় খবর রাজশাহীবাসীকে অবহিত করেছেন এবং জীবনের সন্ধান দিয়েছেন। তিনি সর্বপ্রথম এই রাজশাহী শহরে ‘সোনার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ দেন। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে তিনি সর্বদাই ভাবনা-চিন্তা করতেন এবং তিনি প্রথম ‘সোনার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে রাজশাহীর সর্বস্তরের জনগণকে রাজনীতিসহ প্রত্যেকটি বিষয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তিনি এই ‘সোনার দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে ভাষা সংগ্রামী সাইদ উদ্দিন আহমদ, রাজনীতিক সরদার আমজাদ হোসেন সহ অনেক তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে সাংবাদিকতার মহৎ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এদিক থেকেও বলা যায়, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পঞ্চম ও ষাটের দশক তাঁর পত্রিকাকে ঘিরেই বা অবলম্বনে নিজেদের হাতকে পাকাপোক্ত করার বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ক্ষেত্রেও তাঁর পথিকৃতের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। এ সঙ্গে এ কথাও বলা দরকার তাঁর ছোট চাচা বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজহিতৈষী ও অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট মহাম্মদ আবদুস সামাদ (রাজশাহী জেলা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ১৯৬৯ সালে রাজশাহী শহরে শাহ মখদুম কলেজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রাণপুরুষ) জেলা পরিষদের অর্থানুকুল্যে সাপ্তাহিক রাজশাহী বার্তা নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই পত্রিকাকে অবলম্বন করে অনেকেরই সাংবাদিকতার হাতে খড়ি হয়েছে। অতএব, রাজশাহীর জনজীবনে ‘রাজশাহী বার্তা’ পত্রিকার মতোই সোনার দেশ পত্রিকাটির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এছাড়াও ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থেকে বিশিষ্ট সাংবাদিক কবি ও সংস্কৃতিসেবী ওবায়দুর রহমান সম্পাদিত-পত্রিকাটি প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় নেতা কামারুজ্জামান সাহেব প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আর্থিক সহায়তা দান করেছেন। সে সময় এ পত্রিকার ডা. আলাউদ্দীন, এ্যাড. আবদুল হাদী, এ্যাড. আবদুল বাকী প্রমুখ এবং সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জনাব মুহ. মজিবর রহমান, শহীদুল ইসলাম, প্রশান্ত সাহা সহ আরো অনেকেই।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাইরে রাজশাহী মহানগরী বা সিল্ক সিটি বা শিক্ষা নগরী থেকে প্রকাশিত বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং সংস্কৃতি সেবী আকবারুল হাসান মিল্লাতের সম্পাদনায় ‘দৈনিক সোনার দেশ’ পত্রিকাটি সর্বাধিক জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত পত্রিকা হিসেবে নিজের অবস্থান অনেকটা পাকাপোক্ত করেছে বলে অনেক গুণিজন তাঁদের গঠনমূলক ও যুক্তিনিষ্ঠ মতামত ব্যক্ত করেছেন। আর এ পত্রিকাটির মূলমন্ত্র হচ্ছে-‘যা ঘটে তা তুলে ধরার প্রচেষ্টা প্রতিদিন’। বিদগ্ধ পাঠক সৃষ্টির লক্ষে মাত্র ৪ টাকায় ৮ পৃষ্ঠার পত্রিকাটি রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ‘গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং এই পত্রিকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই গণমানুষের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছে।
এক সূত্রে জানা যায়, আমাদের জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য সন্তান এবং আধুনিক রাজশাহী মহানগর গড়ার প্রধানতম কারিগর ও প্রাক্তন সফল মেয়র ‘জননেতা’ এইচএএম খায়রুজ্জামান লিটনের পৃষ্ঠপোষকতায় পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। প্রত্যেকদিন পত্রিকার ১ম পৃষ্ঠা ও ৮ম পৃষ্ঠা চমৎকার ৪ রং-এ মুদ্রিত হচ্ছে। অবশ্য কখনো কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ছাপার কাজে বিঘ্ন ঘটে। তারপরও বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বলবো এখনও রাজশাহীর মতো মফস্বল মহানগর থেকে ৮ পৃষ্ঠা পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশও কিন্তু কৃতিত্বের বিশেষ স্বাক্ষর বহন করে। প্রতিদিন প্রথম পাতায় দেশ-বিদেশের চমৎকার আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন ও যুক্তিনিষ্ঠ খবর পাঠকের মনে বিশেষ দাগ কাটে। সেখানে সম্পাদক সহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কলমশক্তির পরিচয় প্রস্ফুটিত হয়। সেখানে ‘বৃক্ষ তোমার নাম ফলে পরিচয়ের’ মতোই পত্রিকার ১ম পাতা পড়লেই পত্রিকার গুণগতমান বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। সেখানে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনও ছাপা হয়। এর ফলে আরো অনেক খবর পাঠ থেকে আমরা বঞ্চিত হই। তার পত্রিকার খরচ নির্বাহের কারণে ১ম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন না ছাপালেই নয়। ২য় পৃষ্ঠায় চোখ বুলালেই দেখা যায় ১ম পৃষ্ঠার অবশিষ্ট খবর বিন্যাস, বিশেষ খবর ও বিজ্ঞাপন। ৩য় পৃষ্ঠায় ছবিসহ শুধুই খবর আর জবর খবর। শেষাংশে অন্যান্য জেলার সাংবাদিকদের পাঠানো প্রামাণ্য চিত্রসহ বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং নাজানা কথা ও কাহিনী। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ৪র্থ পৃষ্ঠায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও মননশীল সম্পাদকীয় এবং উপসম্পাদকীয় প্রাসঙ্গিক ভাবনায় অত্যন্ত ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ। এই সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় পাঠ করলেই অতি সহজেই বুঝা যায় পত্রিকার মান ও গুণগত চরিত্র অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের। আবার এই পৃষ্ঠাতেই বিদেশের অনেক গুরুত্ব বই, চমকপ্রদ আকর্ষণীয় এবং নতুন নতুন বিষয় সংবলিত খবর প্রকাশিত হয়। সম্পাদক মহোদয় দীর্ঘসময় ধরে অত্যন্ত ধৈর্য্যসহকারে এ সব খবর ইন্টারনেট ঘেটে ঘেটে পত্রিকায় ছবিসহ প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে, পাঠক সমাজ নতুন নতুন স্বাদের, কখনো বা হাস্যরস কৌতুক মিশ্রিত খবর বা কথামালা পাঠ করে নিজে উপকৃত ও লাভবান হন। তাঁদের জ্ঞানের জগত ও নতুন মাত্রা সংযুক্ত হয়। আর এ জন্যই ক্রমশই এই পত্রিকার পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পত্রিকাটি হাতে নিলেই পাঠকমন আনন্দচিত্তে কানায় কানায় ভরে যায়।
‘সোনার দেশ’ পত্রিকায় বিভিন্ন বারে বিভিন্ন পাতায় রংধনু, শিল্প-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, আনন্দলোক বা বিনোদন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ছোটদের পাতা কাঠ-পেন্সিল, ক্রীড়া এবং শুক্রবারে বিশেষত ‘পান্ডুলিপি’ শিরোনামে সাহিত্য পাতাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশ ও দেশের বাইরের অনেক খ্যাতিমান লেখক, পণ্ডিত ও কবিগণের লেখায় এবং আলঙ্কারিক শিল্পকর্মের মাধ্যমে সাহিত্য পাতাটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। এ সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে হয়- সেটি হলো ৬ পৃষ্ঠার পুরোটায় দেশ-বিদেশের খেলাধুলার খবর ও ছবি গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়। এর ফলে, আমাদের তরুণ সমাজ খেলা-ধুলার প্রতি বিশেষভাবে আকর্ষণ অনুভব করে। এছাড়াও ৭ম পৃষ্ঠায় ৮ম পৃষ্ঠায় অবশিষ্ট খবর বা বিশেষ ছবি প্রকাশ করা হয়। আবার ৮ম পৃষ্ঠায় ৪রং ছবিসহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে এই পৃষ্ঠায় একেবারে মাথার দিকে নামাজের সময়সূচি, আবহাওয়ার গতিবিধি ও বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। এসব বিষয় দেশের বা সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অবহিত হওয়ার ফলে দৈনিক ‘সোনার দেশ’ পত্রিকাটি প্রতিদিনই পাঠক সমাজের কাছে নতুন নতুন ভাবে সমাদৃত হচ্ছে। যা রাজশাহীর সংবাদপত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় সংযোজন বলা যেতে পারে।
পাঁচ.
দৈনিক ‘সোনার দেশ’ পত্রিকার ৭ম বর্ষ পূর্তি এবং ৮ম বর্ষ পদার্পণ উপলক্ষে আজ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হলো। এজন্য আমরা পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক এবং এ পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে ধন্যবাদ সাধুবাদ, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং বারবার অভিনন্দন জানাই।
সেই সঙ্গে গত এক বছরের সফলতা এবং ব্যর্থতার চিহ্নিত বিষয়গুলি নিয়ে অবশ্যই ‘সোনার দেশ’ পরিবারের সব সদস্যকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে উত্তরণের পথ বিনিময় করতে হবে। বিশেষ করে জাতির জীবনে সব বিষয়ে পিছিয়ে থাকা রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি বিষয়ে সৎসাহসের সঙ্গে সমস্যাসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং তা সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারকে অবহিতকরণ এবং এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সাথে সাথে ফলোআপেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ‘সোনার দেশ’ পত্রিকায় সর্বদাই পজিটিভ খবর’ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ছাপতে হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সংকটকালে সংবাদপত্রই ‘সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল বলে আমাদের কাছে মনে হয়। এজন্যই ‘সোনার দেশ’ পত্রিকাকে অবশ্যই নির্ভীক ও অকপট হতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ চিন্তা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জনগণের কল্যাণে এই পত্রিকার প্রতিটি সদস্যকে অবশ্যই নিবেদন প্রাণ হতে হবে।
আমাদের মনে হয়, জনকল্যাণ, মানবপ্রেম ও দেশপ্রেম যে কোন পত্রিকার মূল আদর্শ হওয়া উচিত। আর সেই চিন্তা-চেতনার আলোয় জনগণের উন্নততর জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘সোনার দেশ’ পত্রিকার যাবতীয় কর্মপ্রয়সি সবমহলে যেন প্রশংসিত হয়- সে দিকে অবশ্যই তাঁদের সজাগ ও সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিতে হবে। দেশের প্রত্যেকটি সংবাদপত্রের নিজস্ব একটি দর্শন থাকে। আমাদের মনে হয়েছে,’- ‘সোনার দেশ’ পত্রিকা মহান ভাষা আন্দোলনের একুশের চেতনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।
অতএব, এই পত্রিকা আগামীতেও রাজশাহীবাসীসহ দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কলমযোদ্ধার ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। জয়তু ‘সোনার দেশ’। জয়তু ‘সোনার দেশ’। জয়তু ‘সোনার দেশ’।
লেখক: অধ্যক্ষ (অব.) শাহ মখদুম কলেজ, রাজশাহী।