দোয়া কবুলের ওয়াদা

আপডেট: মে ১৯, ২০১৯, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ


আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে রোজাদারের দোয়া কবুল করে থাকেন। আল্লাহ তো ঘোষণা দিয়েছেন, ইফতারের সময় তোমরা আমার কাছ থেকে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। রাতের আঁধারে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। শেষ রাতে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, এ মাসের সর্বক্ষণ তোমাদের দোয়া কবুলের দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।
রমজান মাস আল্লাহর দরবারে চেয়ে নেয়ার মাস। তাই এই মাসে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। কারণ, বান্দা দোয়াতে তার অসহায়ত্ব ও অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং আল্লাহ তায়ালার একচ্ছত্র ক্ষমতা, বড়ত্ব ও মালিকানা স্বীকার করে নেয়। দোয়াতে প্রকাশ পায়, আল্লাহ তায়ালা মহান প্রভু, আর বান্দা তার গোলাম। সকল ক্ষমতার মালিক তিনি। গুনাহ ক্ষমা করার মালিক তিনি ছাড়া আর কেউ নাই, প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতাও তিনি ছাড়া আর কেউ নাই। তাই তাঁর শাহী দরবারে দোয়া করলে তিনি খুশি হন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। (সূরা আল মুমিন-৬০) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দোয়াই ইবাদত। তিনি অপর এক হাদিসে বলেন, আল্লাহর কাছে দোয়া অপেক্ষা অধিক সম্মানিত কোনো বিষয় নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, দোয়া ইবাদতের মগজ। এক হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বাঞ্ছা ও প্রার্থনা পছন্দ করেন। অভাব-অনটনের সময় সচ্ছলতার জন্যে দোয়া করে রহমত প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করা সর্ববৃহৎ ইবাদত। এক হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজন প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হন। (তিরমিজি)
সহিহ ইবনে হিব্বানে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা দোয়া করতে অপারগ হয়ো না, কেননা, দোয়াসহ কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, ধর্মের স্তম্ভ এবং আকাশ ও পৃথিবীর নূর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, যার জন্যে দোয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, তার জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়।
বান্দা আল্লাহর কাছে যে দোয়া করে, তা কবুল হয়। কিন্তু বান্দা মাঝে মাঝে দোয়া কবুল না হওয়াও প্রত্যক্ষ করে। এর জবাবে আবু সাঈদ খুদরি রা. বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মুসলমান আল্লাহর কাছে যে দোয়াই করে, আল্লাহ তা দান করেন, যদি তা কোনো গুনাহ অথবা সম্পর্কচ্ছেদের দোয়া না হয়। দোয়া কবুল হওয়ার উপায় তিনটি। তন্মধ্যে কোনো না কোনো উপায়ে দোয়া কবুল হয়। এক. যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া। দুই. প্রার্থিত বিষয়ের পরিবর্তে পরকালের কোনো সওয়াব ও পুরস্কার দান করা। তিন. প্রার্থিত বিষয় না পাওয়া। কিন্তু কোনো সম্ভাব্য আপদ-বিপদ সরে যাওয়া।
দোয়া কবুলের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহে কিছু কিছু বিষয়কে দোয়া কবুলের পথে বাধা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এসব বিষয় থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। যেমন হযরত আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোনো কোনো লোক খুব সফর করে এবং আকাশের দিকে হাত তুলে ‘ইয়া রব’ ‘ইয়া রব’ বলে দোয়া করে; কিন্তু তাদের পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম পন্থায় অর্জিত। এমতাবস্থায় তাদের দোয়া কিরূপে কবুল হবে? (মুসলিম)
এমনিভাবে অসাবধান, বেপরোয়া ও অন্যমনস্কভাবে দোয়ার বাক্যাবলী উচ্চারণ করলে তাও কবুল হয় না বলেও হাদীসে বর্ণিত আছে। (তিরমিজি)
আল্লাহ তায়ালা দোয়া কবুলের এই মাসে আমাদের বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন।
লেখক: পেশ ইমাম, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী