ধানের দাম নেই ক্ষতির মুখে কৃষক

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৮, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

শাহিনুল ইসলাম আশিক


বরেন্দ্র অঞ্চলে চলছে ধান ঘরে তোলার উৎসব সোনার দেশ

চলছে ধান কাটার উৎসব। গোলায় উঠছে নতুন ধান। কৃষকের মুখ মলিন। উৎসবেও যেনো তৃপ্তি নেই কৃষকের মনে। একদিকে উৎপাদনে খরচ বেশি, অন্যদিকে বিক্রির বেলায় দাম কম। ধান কিনে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে কৃষকরা। ব্যবসয়ীরা স্বর্ণা (আমন) ধান কৃষকদের থেকে ৬৭৫ থেকে ৭০০ টাকা মণ (৪০ কেজি) দরে কিনছেন।
এই মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভর ছিলো আমন চাষ। কৃষকদের বিভিন্ন উপায়ে জমিতে সেচ দিয়ে ধান চাষ করতে হয়েছে। আগের চেয়ে এবছর ধান চাষে বিঘাপতি তিন থেকে চার হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। সেই তুলনায় ধান বিক্রিতে সুবিধা করতে পারছে না কৃষক।
রাজশাহীর কৃষিবিদরা বলছেন, বৃষ্টিপাত কম হলেও কৃষকরা সেচ দিয়ে ধান চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবছর ধানের ফলন ভালো। তেমন রোগ বালায় প্রাদূর্ভাব ছিলো না। তাই কৃষকদের তেমন কিটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (উদ্যান) আবদুল ওয়াদুদ জানায়, বর্তমানে মূলত স্বর্ণা (আমন ধান) উঠছে। রাজশাহী অঞ্চলে ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে এই ধানের চাষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ হিসেব মতে ৩২ হাজার ৮০৬ হেক্টর জমির ধান কর্তন (কাটা) করা হয়েছে। এর গড় ফলন ৭ দশমিক ৫৭ টন পার প্রতি হেক্টর। গত বছর ছিলো ৩ দশমিক ৩ টন প্রতি হেক্টর।
নগরীর উপকণ্ঠ খরখড়ি সিটি বাইপাসের ললিতাহার এলাকার আবুল কাশেম (৭০) বলেন, তিনি সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে স্বর্ণা ধান চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ১২হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয় ধান চাষে। এবছর বর্ষণ না থাকায় সেচ দেয়ার কারণে খরচ বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, ধার দেনা করে ধান চাষ করেছিলাম। ধান বিক্রি করে টাকা পরিশোধের কথা ছিলো। এখন ঘর থেকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। ধান চাষ করে কৃষক যতোটা লাভবান না হচ্ছে তার থেকে বেশি ব্যবসয়ীরা। ব্যবসায়ীরা অল্প দামে ধান কিনে চাল করে দ্বিগুন দামে বিক্রি করছে। এতে কৃষকের সব ক্ষেত্রে লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মুন্সি ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারি আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানায়, প্রায় ১৫দিন আগে থেকে নতুন ধান বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। নতুন ধান উঠায় বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে বেশি উঠলে কমতে পারে ধানের দাম। তিনি আরো বলেন, বাজারে ‘সুমন স্বর্ণা’ বা ‘স্বর্ণা-৫’ কৃষকদের থেকে কেনা হচ্ছে ৭০০ টাকা মণ (৪০ কেজি) দরে, ৫১ ধান ৬৯০ ও গুটি স্বর্ণা ৬৭০ থেকে ৬৭৫ টাকা মণ (৪০ কেজি) দরে কেনা হচ্ছে।
রহমত আলী নামের এক কৃষক জানায়, বর্তমানে খুব ভালো ধান সাড়ে ১৭ টাকা দরে আড়ৎদার রা কিনছেন। সেই তুলনায় ধানের থেকে চালের দাম বেশি। এতে ব্যবসায়ীরা ধান কিনে লাভবান হচ্ছেন। আর কৃষক হাড় ভাঙা পরিশ্রম করেও দু’পায়সার মুখ দেখতে পাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শ্রমিকের মুজরি ও সারের দাম বেশি। তাই উৎপাদন খরচ বেশি। আর বিক্রির সময় দাম কম। এতে করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় বাজার মনিটরিং করে ধানের দাম নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।