ধান সংগ্রহে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত কৃষকের তালিকা যথার্থ হতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের পরিবর্তন আসেছে। প্রতিবছরই সরকার মাঠ পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহ করে- কিন্তু এটি সবসময় প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। অর্থাৎ প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র কৃষকগণ সরকারের এই সুযেঅগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ফলে তাদের ফড়িয়াদের কাছে আরো কম র্মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তা ছাড়া সরকার যে পদ্ধেিত ধান সংগ্রহ করে সেখানে অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। আবার মধ্যসত্ত্বভোগিদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। অর্থাৎ সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
এবারের বোরো মৌসুমে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অবশেষে সরকার ভর্তুকি দিয়ে সারাদেশে ধান ক্রয়ের যে কর্মসূচি গ্রহণ করে সেখানে কৃষকের নয়, সিন্ডিকেটের ধানেই ভরে খাদ্যগুদাম- এমন অভিযোগও আসে। সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবরও প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক কৃষক-পর্যায়ে ধান-চালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ বা প্রক্রিয়াকরণ, মিলারদের মাধ্যমে ক্রাশিং ও সংরক্ষণ এবং চাল রফতানির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
সরকার এই বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ধান কাটার এক মাসে আগে তিন শ্রেণিতে কৃষকদের তালিকা করে তা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা ধরে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ ধান ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য মতে, ধান কেনার আগে এলাকায় এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। ধান কেনার সময় শতকরা ২০ ভাগ ধান বৃহৎ চাষী, ৩০ ভাগ ধান মাঝারি চাষী এবং ৫০ ভাগ ধান প্রান্তিক চাষীর কাছ থেকে কেনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী বোরোতে যাতে কৃষক বঞ্চিত না হন সেজন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে সবাই একমত হয়েছেন যে, কৃষককে স্বল্প সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ধান বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত কৃষকের অর্থ হতে ব্যাংক ঋণ কর্তন না করা। একই সঙ্গে বর্গাচাষীদের ঋণ সুবিধার আওতায় আনা।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে এর সুফল কৃষকগণ পাবেন। বিশেষ করে প্রান্তি ও ক্ষুদ্র চাষিরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে। একই সাথে ধান ক্রয়কে কেন্দ্র করে গড়েওঠা ঠাউট-বাটপার ও মধ্যসত্ত্বভোগিদের দৌরাত্ম্যও বহুলাংশে কমে আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে। আর কৃষকের তালিকা প্রণয়নের কাজটিও খুব গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। তালিকা প্রণয়নের স্বচ্ছতা না থাকলে সরকারের একটি শুভ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সাবধান থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ