ধাপে ধাপে পেসারদের উন্নতি করাতে চান ল্যাঙ্গাভেল্ট

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রাসেল ডমিঙ্গো, চার্লস ল্যাঙ্গাভেল্ট, নিল ম্যাকেঞ্জি এবং রায়ান কুক। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফ প্রায় সাউথ আফ্রিকাময়। শুধু স্পিন কোচ ডেনিয়েল ভেট্টোরি নিউজিল্যান্ডের। বিষয়টাকে অবশ্য ইতিবাচকভাবেই দেখছেন টাইগারদের নতুন পেস বোলিং কোচ ল্যাঙ্গাভেল্ট। সবাই স্বদেশি, তার উপর ডমিঙ্গোর সঙ্গে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে। চেনা সেই অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশে কাজটা সহজ হবে বলে মনে করছেন ল্যাঙ্গাভেল্ট।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কোর্টনি ওয়ালশের অধ্যায় শেষ। তার জায়গায় বুধবার থেকে রুবেল-মোস্তাফিজদের দায়িত্ব নিয়েছেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। যোগদানের আগেই পেস আক্রমণ নিয়ে ছক সাজিয়ে ফেলেছেন বোলিং কোচ। যার মধ্যে পেসারদের লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল করানোয় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় পা রেখে বুধবার সকালে টাইগার ক্যাম্পে হাজির হন ল্যাঙ্গাভেল্ট। চলতি কন্ডিশনিং ক্যাম্পের তৃতীয় দিনে সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পুরো সময়টা নতুন শিষ্যদের সঙ্গ দেন কোচ। এরপর মুখোমুখি হন সংবাদমাধ্যমের। শোনান বাংলাদেশ নিয়ে লক্ষ্যের কথা।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সামর্থ্য কিংবা প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সামর্থ্যের প্রকাশটা ধারাবাহিক নয়। বাংলাদেশকে সম্প্রতি সময়ে বেশ ভুগিয়েছে পেস বোলিং বিভাগ। বিশ্বকাপের পর শেষ লঙ্কান সফরেও পেসারদের ধারাবাহিকতা তেমন চোখে পড়েনি।
২০১৫ থেকে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সাফল্যের পেছনে বড় কারণ ছিল নতুন বলে উইকেট নেয়ার সক্ষমতা। কিন্তু ২০১৯’র শুরু থেকেই যেন চিত্রটা আলাদা। এই সময়ে টাইগার পেসাররা প্রথম পাওয়ার-প্লে’তে নিতে পেরেছেন মাত্র সাতটি উইকেট। স্ট্রাইকরেট ১১৩.১৪ এবং বোলিং গড় ১০৩! এই প্রথম সমস্যাটিই নতুন বোলিং কোচ ল্যাঙ্গাভেল্টকে ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। চ্যালেঞ্জ অবশ্য নিজেও নিয়েছেন সাউথ আফ্রিকার সাবেক পেসার।
নতুন বোলিং কোচের জন্য বিষয়টি মোকাবিলা করা বেশ কঠিন। তবে ধাপে ধাপে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী পেসারদের উন্নতি করাতে চান প্রোটিয়া কোচ। তার ভাষায়, ‘উপমহাদেশের উইকেটগুলো স্পিন সহায়ক হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এখানে পেস বিভাগ নিয়ে কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। নতুন বলে বল করাটাও কঠিন। বোলিংয়ের টেকনিক্যাল দিকগুলো জানতে হয়। ৫০ ওভারের ক্রিকেট বলুন আর টেস্ট ক্রিকেট, নতুন বলে বল করাটা গুরুত্বপূর্ণ। পেস বোলিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল করা। এগুলো নিয়েই আগে কাজ করব।’
আফগানিস্তান জাতীয় দলের হয়ে কাজ করা এ কোচ বাংলাদেশে কোচিং করানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তার মতে আছে অনেক বাধা-বিপত্তিও, ‘এখানেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমি আফগানিস্তানে কোচিং করানোর সময় হয়েছিলাম।’
ভিনদেশি কোচের জন্য এই উপমহাদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ভাষা। ভাষা বাধা হবে কি না প্রশ্ন উঠতেই ল্যাঙ্গাভেল্ট হ্যাঁ-সূচক মন্তব্য করলেন। পরে যেটা বললেন সেটা আরও ভয়ঙ্কর। এ প্রোটিয়া মনে করেন অনেকে না বুঝেও ইয়েস বলেন।
‘আমি আফগানিস্তানেও এই বাধার মুখোমুখি হয়েছি। গ্রুপে কথা বলার চেয়ে একজন করে কথা বলাই ভালো। আমার এমনও অভিজ্ঞতা আছে, আফগানিস্তানে অনেক খেলোয়াড় না বুঝেই ইয়েস বলে দিতো।’
সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। ভাষা যাতে বাধা না হয় সেজন্য কীভাবে কাজ করবেন তাও বলেছেন ল্যাঙ্গাভেল্ট, ‘আমি একজন একজন করে কথা বলব। যাতে কেউ না বুঝলেও পরে আবার তাকে বোঝানো যেতে পারে। ধীরে ধীরে কথা বলে বোঝাতে হবে। তার চেয়ে বড় জিনিস হল, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যত ভালো সম্পর্ক হবে তত সহজেই বুঝতে পারবে।’
‘আমার মনে হয় ভাষা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, যখন আমার ও বোলারদের মধ্যে দারুণ একটা সম্পর্ক তৈরি হবে, তখন এটা কোনো সমস্যা নয়। বোলারদের সঙ্গে আন্তরিক একটা সম্পর্ক সৃষ্টি হলে তারাও আমার ভাষা বুঝবে এবং আমিও তাদের সমস্যা বুঝতে পারব।’
বাংলাদেশের বেশিভাগ সিরিজই হয় ঘরের মাঠে। ফলে দেশের চেনা উইকেটে বলটা বেশ ভালোই করেন বোলাররা। কিন্তু বাইরে গেলেই সেটা পাল্টে যায়। এই যেমন মোস্তাফিজুর রহমান। বিশ্বকাপে ২০ উইকেট পেলেও ইনিংসের অন্তত ৩০ ওভার শেষ হওয়ার আগে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন, সেটাও ২০ বা তার চেয়ে বেশি ওভার পরে।
তবে ল্যাঙ্গাভেল্ট বলছেন, বাংলাদেশের এই বোলিং লাইনআপ বিশ্বের যেকোনো জায়গাতেই সফল হতে পারে। সেজন্য তাদের ধারাবাহিকতা এবং ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে। তথ্যসূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন