বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ধামইরহাটে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার

আপডেট: December 5, 2019, 1:14 am

ধামইরহাট প্রতিনিধি


নওগাঁ-ধামইরহাট-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে স্পীড ব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে রাস্তা। এ কারণে বিগত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুলের সামনের সড়কে স্পীড ব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজ নির্র্মাণের দাবী জানিয়েছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ-ধামইরহাট-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার রাস্তার পার্শ্বে প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ধামইরহাট সরকারি এম এম কলেজ, ধামইরহাট মহিলা কলেজ, ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধামইরহাট সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, চকময়রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিড়লডাঙ্গা নূূরাণী মাদরাসা, হরিতকীডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, হরিতকীডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোকিল-রুপনারায়ণপুর সম্মিলিত আলিম মাদরাসা, কোকিল প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহানপুর এসসি উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মঙ্গলবাড়ী সিরাজিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। উপজেলার এই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। দূরপাল্লা এবং আভ্যন্তরিত যানবাহনগুলো দ্রুত গতিতে চলাচল করে। ফলে প্রতিনিয়ত রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটছে।
এব্যাপারে কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মহসিনা ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মাহিব হাসান বলে, আমরা অনেক ভয় নিয়ে রাস্তা পার হই। আর রাস্তায় সার্বক্ষনিক যানবাহন দ্রুত গতিতে চলাচল করে। এখানে গতিরোধক ব্যবস্থা থাকলে তারা স্বাচ্ছন্দে রাস্তা পার হতে পারতেন।
ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম ও এরশাদুল আলম বলেন, স্কুলের দক্ষিণ পাশে বড় রাস্তা। তাদের সন্তানদেরকে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। তাই অভিভাবকরা ভয়ের শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।
কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার বলেন, তার বিদ্যালয় এ আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত। ফলে সড়কের দক্ষিণ এলাকার শিক্ষার্থীরা এ সড়ক পার হয়ে তার স্কুলে আসতে চায় না। তাছাড়া বিদ্যালয়ের সামনে স্পীডব্রেকার না থাকায় ওই এলাকায় অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে তার এক শিক্ষার্থী বাস চাপায় মারা গেছে। অপর এক শিক্ষার্থী ইজিবাইকের ধাক্কায় পা হারিয়েছে।
চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই-রব্বানী জানান, উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে। তাই শিক্ষার্থীদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হয়। অনেক সময় তাদেরকে দূর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। সরকার যদি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পীড ব্রেকার অথবা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করে তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে সড়ক পার হতে পারতো।
এবিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হামিদুল হক জানান, যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পীডব্রেকার নির্মাণের প্রয়োজন হয়। তবে জেলা প্রশাসক বরাবর ওই প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করতে হবে। আবেদন গৃহীত হলে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পীডব্রেকার নির্মাণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ