বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ধামইরহাটে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ || বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

আপডেট: November 19, 2019, 12:45 am

ধামইরহাট প্রতিনিধি


ধামইরহাটের শালুকু কুড়ি মাঠের ধান খেত-সোনার দেশ

নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ চাষ হয়েছে। এবার রোগ বালাইয়ের তেমন আক্রমন না থাকায় ও আবহাওয়া অনকূলে থাকায় আমনের বাম্পারফলনের সম্ভবনার আশা করছেন এ উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর আদী বরেন্দ্র্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ধামইরহাট উপজেলায় এবার ১৯ হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে স্বর্ণা জাতের ধান চাষ হয়েছে। এছাড়া বিনা-১৭, কাটারী ভোগ, ব্রিধান-৩৪, ৪৯, ৫১, ৫২, ৫৬,৭১,৭৫, ৮০ ও ৮৭ জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। অনেক জমিতে পোলাওয়ের ধান হিসেবে পরিচিত সুগন্ধি চিনি আতপ ধান চাষ হয়েছে। চিনি আতপ ধানের বাজার মূল্য সব সময় বেশি। বর্তমানে মাঠে মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে। এবার ধানের রোগবালাই নেই বললে চলে। তবে মাঝে বাদামী গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কৃষকরা আগাম ব্যবস্থা নেয়ায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েনি। গত বোরো মওসুমে কৃষক ধান চাষের খরচ ও কাটা মাড়াইয়ের মজুরি দিয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছিল। তারপরও অনেক আশা ভরসা নিয়ে নতুন উদ্যোমে অধিক পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ করেছে।
উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শিববাটি গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, দুই একর জমিতে তিনি বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করেছেন। একর প্রতি তার ফলন হয়েছে প্রায় ৬০-৬৫ মণ।
পৌরসভার চকউমর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি এবার অন্যান্য ধানের সঙ্গে কাটারীভোগ ধান চাষ করেছেন। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এ ধান ৮ শ থেকে ৮ শ ২০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে।
জয়জয়পুর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। স্বর্ণা-৫ জাতের ধান একর প্রতি ৬২ মণ হারে ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এ ধান ৬ শ থেকে ৬ শ ৫০টাকা দরে কেনাবেচা চলছে। বোরো মওসুমে ধানের চাষ করে তার লোকসান হয়েছিল। তাই এবার ধানের মূল্য কমপক্ষে যেন ৮ শ টাকা থাকে সে ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন, আমন মওসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জাতের মধ্যে বিনা-১৭ এবং ব্র্রিধান-৭১,৮৭ চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ মণ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উঠান বৈঠক, হাট-বাজার সভা এবং গ্রুপ ভিত্তিক কৃষক সমাবেশ, গ্রাম কৃষক বন্ধু প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, লিফলেট বিতরণ, কৃষি প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আমন ধানের পোকামাকড় সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। ফলে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে ক্রয় করার সিন্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরি করছি। এই তালিকা থেকে প্রান্তিক, মাঝারী ও বড় কৃষকের তালিকা নির্ধারণ করা হবে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে কি প্রক্রিয়ার ধান ক্রয় করা হবে সে ব্যাপারে আগামী সোমবার সিন্ধান্ত নেয়া হবে।