ধুমপান, হৃদরোগের বাড়বাড়ন্ত ধুমপান নিরোধে আইনের প্রয়োগ চাই

আপডেট: জুন ৫, ২০১৮, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত ২০১৭ সালের বুলেটিন অনুযায়ী, ২০০৯-২০১৬ সালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপান। ২০০৫-২০১৬ সময়ে বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ সপ্তম স্থান থেকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এবং এই পরিবর্তনের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক এই তথ্য জানা গেছে।
তামাকপণ্য নিরোধে হইচই হচ্ছেÑ এর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক জেনেও বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রয়োগ খুবই হতাশাজনক। বরং জনসমাগমে ধূমপান করার প্রবণতা বৃদ্ধিই পাচ্ছেÑ যদিও ধুমপান নিরোধে আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তামাকপণ্যের ব্যবহার সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে ব্যাপক এবং তা মারাত্মক রূপ ধারণ করছে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট থেকেই বোঝা যায়। সংস্থার তথ্য বলছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এদেশে ৪ কোটি ৬০ লাখ বা ৪৩ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সিগারেট, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন। ৫৮ ভাগ পুরুষ এবং ২৯ ভাগ নারী ধোঁয়াযুক্ত অথবা ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে-বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত মৃত্যুর ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী ধূমপান। এ ছাড়া ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ৩৮ শতাংশ, ফুসফুসে যক্ষ্মার কারণে মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে মৃত্যুর ২৪ শতাংশের পেছনে রয়েছে ধূমপান। অর্থাৎ দেশে শুধু তামাকের কারণে প্রতিবছর ১ লাখ মানুষ মারা যায়। ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গু হয় এবং ১২ লাখ মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগে।
এক পরিসংখ্যান অসুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত ৮টি প্রধান রোগে ১২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগীদের মাত্র ২৫ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ধরে হিসাব করলে বছরে দেশের অর্থনীতিতে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অন্যদিকে তামাক খাতে বছরে সরকারের আয় হয় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেট থেকেই মাদকের নেশা শুরু হয় এবং মাদকাসক্তদের ৯০ শতাংশই ধূমপায়ী।
পরিস্থিতি যে অস্বাভাবিক তা এসব তথ্য থেকেই বোঝা যায়। কিন্তু তামাকপণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হলেও তামাকপণ্যকে নিরুৎসাহিগত করা এবং তামাকের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নমনীয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে প্রকাশ্যে ধুমপানের প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রি স্টাইল ধুমপান-প্রবণতা লক্ষ করলেই আইনের প্রয়োগ যে হচ্ছে না সেটা বোঝা যায। অথচ শুধু নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হলেও প্রকাশ্যে ধুমপান-প্রবণতা অনেক হ্রাস পায়, এটা প্রমাণিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ