বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নওগাঁয় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল || ভেঙে পড়তে পারে জীর্ণশীর্ণ পুরাতন ভবন

আপডেট: December 7, 2019, 1:36 am

আবদুর রউফ রিপন, নওগাঁ


নওগাঁয় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। (ইনসেটে) এভাবে খসে পড়েছে ছাদের পলেস্তরা -সোনার দেশ

নওগাঁর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এটি। শহরের একটু বাইরে বালুডাঙ্গা নামক স্থানে অবস্থিত এই বাস টার্মিনাল। এর পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পৌরসভা থেকে গত ৪ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও অপসারনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কিন্তু বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ বাস টার্মিনালটি পৌরসভা থেকে ইজারা দেয়া হচ্ছে।
জরাজীর্ন ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের নিচে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের ছাদ ধ্বসে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পৌরসভা বাজার শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালটি ইজারা দেয়া হয়। চলতি ১৪২৬ বাংলা সালে টার্মিনালটি পুরাতন ভবনসহ ৭লাখ ৫১ হাজার টাকায় ভ্যাট ছাড়া ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এহসান রেজা রেঞ্জা নামে এক ব্যক্তি ইজারা নিয়েছেন। গত বছর (১৪২৫) ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিল।
নওগাঁ শহরের যানজট নিরসনে আশির দশকে বাস টার্মিনালটি শহরে প্রবেশ মুখে বালুডাঙ্গায় স্থানান্তর করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী প্রয়াত আবদুল জলিল। বাস টার্মিনালটিতে মোটর শ্রমিক ও চালক এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে একটি ভবন তৈরি করা হয়। দীর্ঘ বছর পর ভবনটি এখন পুরাতন হয়ে গেছে। ছাদের নিচ থেকে পলেস্তরা খসে বিভিন্ন অংশে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে পলেস্তরা খসে মাথায় পড়ে কয়েকজন মোটর শ্রমিক আহত হয়েছে। গত ৪বছর আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পৌরসভা থেকে সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছিল। কিন্ত বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি অপসারনের কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে, টার্মিনালের পশ্চিম পাশে প্রায় ২০০ ফুট দুরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বিতল ভবন থাকলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। সেখানে তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও যাত্রী উঠানামা করানো হয়না।
সরকারি কর্মকর্তা রুসো সাব্বির তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘চাকরির কারণে প্রায় প্রতিদিনই এই টার্মিনালে এসে বাস ধরতে হয়। টার্মিনাল ভবনটি বহু আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিৎ ছিল। ছাদের তলদেশের প্রায় পুরোটাই পলেস্তরা খসে পড়ে রডগুলো বেরিয়ে পড়েছে, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ ধসে যে কোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা, ঘটতে পারে প্রাণহানি।
তিনি আরো লিখেছেন, ২০০ গজ পাশেই অলস পড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল ভবন, যা রহস্যজনক কারণে একদিনের জন্যও ব্যবহৃত হয়নি। দ্রুত এই পুরাতন টার্মিনাল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে, এর স্থাপনা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। নতুন টার্মিনাল ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালীন সময়ে পাশের সম্পূর্ণভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল ভবনটি অনায়াসে ব্যবহার করা যেতে পারে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
টার্মিনালটির পুরাতন ভবনের হোটেল মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত ২০ বছর যাবৎ ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে হোটেল করেছেন। পৌরসভার কাছ থেকে মোটর শ্রমিকরা নিয়েছেন, আর তাদের কাছ থেকে আমি ভাড়া নিয়েছি। প্রতিবছর নিজেকেই ঘষামাজা করতে হয়। গত ৩ বছর থেকে ভবনটা সরানো হবে শুনছি। কিন্তু সরানো হচ্ছে না। ভবনটি সংস্কারে কেউ এখন দেখভাল করছেন না।
ভবনের কনফেকশনারি দোকানি নূর হোসেন বলেন, ৪ বছর থেকে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দোকানটি দিয়েছি। দোকানের উপরেই ছাদের পলেস্তরা খুলে রড বেরিয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে দলে দলে লোক এসে দেখে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতোপূর্বে পৌরসভা মেয়রকে একাধিকবার বাস টার্মিনালের পুরাতন ভবনের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। প্রতিবছর বাস টার্মিনালসহ ভবনটির ইজারা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন ধরনের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ব্যবহার করছি। যে কোন সময় ভবনটির ছাদ ধ্বসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে টার্মিনালের পশ্চিম পাশে আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে টার্মিনালটি বেশ কয়েকবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি।
নওগাঁ পৌরসভা মেয়র নজমুল হক সনি বলেন, ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন তৈরি করা হবে। এজন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবনা অনুমোদন হতে একটু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।