নওগাঁয় ধর্ষণ মামলার আসামীকে আটক না হওয়ায় সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কিত পরিবার || ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না নির্যাতিতা

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকচম্পক ছোট নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে আমিনুল ইসলাম সকালে তার বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার ১৪ দিন পার হলেও এখনো শিক্ষককে আটক না করায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ভুক্তভুগির পরিবার। এছাড়াও প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষক ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও তার লোকজনের দেয়া বিভিন্ন হুমকি-ধামকীতে মেয়েটি বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাই বর্তমানে গরীব এই পরিবারটি মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা মান্দা উপজেলার চকচম্পক হিন্দুপাড়া গ্রামের মেয়ে। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আর বাবা বগুড়ায় একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করেন। অনেক কষ্টে দিন চলে এই পরিবারের। ছোটবেলা থেকেই নির্যাতিত শিক্ষার্থী সবার সঙ্গে কথা কম বলে। সে বাড়ির পাশে বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতো। সেই বিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আমিনুল ইসলামের কাছে তার বাসায় প্রাইভেট পড়তো। গত ১৮ অক্টোবর বাড়ির পাশে শিক্ষকের বাড়িতে সকালে প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক কৌশলে পরিত্যক্ত ৩ তলায় নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি পরদিন প্রিয়া তার পরিবারকে জানালে বিষয়টি সবাই জানতে পারে। এদিকে ঘটনার পরদিন থেকে শিক্ষক আমিনুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। অনেক ঘটনার পর থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে গত ২১ অক্টোবর।
এদিকে মামলা করার পর থেকে শিক্ষক আমিনুল ইসলামের লোকজনের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকীতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীসহ তার বাবা-মা। তাদের ভয়ভীতির কারণে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না নির্যাতিতা। তাই বর্তমানে এ তার পরিবার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষ্ণুপদ প্রামাণিক, সুবল কুমার সরকারসহ অনেকেই বলেন, শিক্ষক সমাজের মানুষ গড়ার কারিগর। আর সেই শিক্ষক যদি ধর্ষক হয় তাহলে সমাজের মানুষ কোথায় যাবে। এই শিক্ষক আগেও এধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। সেগুলো টাকা মাধ্যমে সমাধান করেছেন। বর্তমানে শিক্ষকের যে স্ত্রী বর্তমান রয়েছে সেও এই শিক্ষকের ছাত্রী ছিলো অনৈতিক কাজের অপরাধে তাকে বিয়ে করতে হয়েছে। শিক্ষক আমিনুল ইসলাম গরীব এই মেয়ের যে সর্বনাশ করেছে আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নির্যঅতিত শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। আমার মেয়ে অনেকটাই হাবাগোবা ধরণের। কথা কম বলে। সেই মেয়ের প্রতি শিক্ষক যে বর্বর নির্যাতন করেছে তার উপযুক্ত শাস্তি চাই। কিন্তু মামলা করার অনেক দিন পার হলেও পুলিশ এখনো ধর্ষককে আটক করতে পারেনি। এদিকে শিক্ষকের লোকজন প্রতিনিয়তই আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি-ধামকীসহ নানা রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। ভয়-ভীতির কারণে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

চকচম্পক ছোট নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক আমিনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পরই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেছে। আর আমিনুল ইসলাম যদি সত্যিই এধরনের কাজ করে থাকে তাহলে আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নওগাঁ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। আর দুপক্ষ থেকে দুরকম তথ্য পাওয়ায় মামলাটি সর্তকতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাক্তারী পরীক্ষার সনদপত্র এখনো পাওয়া যায় নি। ডাক্তারী পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলেই ঘটনার সত্যতা জানা যাবে। আর সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই মূল আসামীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ