নওগাঁয় পাটের আবাদ কমলেও চলতি মৌসুমে পাটের দামে খুশি কৃষকরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি পাট চাষি-সোনার দেশ

উত্তরাঞ্চল নওগাঁ জেলা ধান ও সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত। এসবের পাশাপাশি আবাদ হয়ে থাকে পাটেরও। এক সময় পাটকে সোনালী আঁশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন যেমন কম হয়েছে, পাটের মানও হতাশাজনক। খরচের তুলনায় দামে তেমন পোষায়না। ফলে প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হতো চাষিদের। এতে প্রতি বছরই কমেছে পাটের আবাদ।
কিন্তু এবছর পাটের আবাদ কম হলেও দামে স্বস্তি পেয়েছেন চাষিরা। ফলে তাদের মুখে ফুটেছে সোনালী হাসির ঝিলিক। তবে ভাল দাম এবং কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সুযোগ সুবিধা পেলে আগামীতে পাটের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবছর ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ছিল ৮ হাজার ২৫ হেক্টর এবং ২০১৬ সালে ছিল ৭ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ। জমিতে দেশি, মেছতা এবং তোষা জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। তবে উচ্চ ফলনশীল তোষা জাতের পাটের আবাদ বেশি করা হয়েছে।
এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বৃষ্টিতে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবাতে পানি থাকায় পাট জাগ দেয়ার জন্য এ বছর কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি কৃষকদের। পাটের ভাল ফলন হলে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ হয়ে থাকে এবং খারাপ হলে ৭ থেকে ৮ মণের মতো হয়। গত কয়েক বছর আগে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। গত বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এবছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা।
এবছর আবহওয়া অনুকুলে না থাকায় গতবছরের তুলনায় কমছে পাটের আবাদ। রাণীনগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, এক সময় আলু ও ধানের আবাদের পর জমি পড়ে থাকত। গত ৮-১০ বছর থেকে ১ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করছি। নিড়ানি, সেচ, সার, ওষুধ, কাটা, জাগ দেয়া, পাট ছাড়ানো ও শুকানো পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকার মতো খরচ হতো। কিন্তু সে তুলনায় ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। ফলে লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু জমি ফেলে রাখতে চাই না বলে পাটের আবাদ করি।
আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এবছর আবহাওয়া ভাল না থাকায় ১ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। ফলন একটু খারাপ হয়েছে। তবে বাজারে বিগত বছরের তুলনায় দাম খুবই ভাল। প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে বাজারে পাটের যে দাম আছে, এ দাম থাকলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। আমাদের মতো কৃষকরা লাভবান হতে পারব।
মান্দা উপজেলার কৃষক চকগোবিন্দ গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী বলেন, এবছর দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। বিগত বছরের তুলনায় দাম ভাল পেয়েছি। প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকার মতো লাভ হয়েছে। পাটের ফলন কম হওয়ায় হয়ত দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরা ভাল দাম পেলে আগামীতে পাট চাষেও আগ্রহ বাড়বে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এ জেলায় সবজি ও ধানের পাশাপাশি পাটের আবাদও হয়ে থাকে। এবছর মৌসুমের শুরুতে অধিক বৃষ্টিপাত হয়। ফলে জমিতে জোর না থাকায় অনেক কৃষক সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করতে পারেনি। খরা অবস্থায় জমিতে পাটের বীজ বপনের জন্য ভাল। এজন্য জেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে পাটের আবাদ কম হয়েছে। ফলে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
তিনি আরো বলেন, বাজারে পাটের দাম ভাল রয়েছে। আর দাম ভাল পেলে কৃষকের পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে। এতে করে আগামী বছর কৃষকরা পাটচাষে উদ্বৃদ্ধ হবে এবং আবাদ বৃদ্ধি পাবে।