নওগাঁয় ফসলী জমিতে ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় ফসলী জমিতে ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারিরা- সোনার দেশ

নওগাঁর মহাদেবপুরে ফসলী জমিতে ইট ভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন এলাকার কৃষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে মহাদেবপুর উপজেলার স্বরুপপুর গ্রামের প্রায় দুইশতাধিক সাধারণ কৃষকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমাদেরকে না জানিয়েই নওগাঁ সদর উপজেলার প্রতাপদহ গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে জনৈক মানিক উদ্দীন স্বরুপপুর গ্রামের মৃত কুরানুর ছেলে মঞ্জুর আবাদী ৪ বিঘা জমি বছর লিজ নিয়ে ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটা নির্মাণের শুরুতেই আমরা আমাদের আবাদী জমির ফসল রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসলেও ইটভাটা মালিক কোন তোয়াক্কা না করেই ইটভাটা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আমাদের তিন ফসলী আবাদী জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করতে দিব না। প্রয়োজনে আমরা জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরেও লিখিতভাবে জানাবো বলেও মানববন্ধন থেকে কৃষকরা বলেন।
স্বরুপপুর গ্রামের মৃত বিষু মন্ডলের ছেলে মিলন হোসেন (২৮) ও মৃত আজিজারের ছেলে মোশারফ হোসেন (২৫) বলেন, ইটভাটা মালিক আমাদের সঙ্গে কোন কথা না বলেই আমাদের জমিতে ও ইটভাটা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। একই সময় স্বরুপপুর গ্রামের আফছার আলী মন্ডলের ছেলে ভুট্টু (৩৬) জানান, ওই ইটভাটা মালিক আমাকে এক প্রকার হুমকি দিয়েই বলেছেন যে, নবনির্মীত ইটভাটার সঙ্গে লাগানো আমার তিন ফসলি ৫ বিঘা জমিও তিনি লিজ নিবেন, আমি আপোসে না দিলে আমার জমিতে কোন ফসল হবে না এজন্য আমি জমি দিতে বাধ্য হব বলেও আমাকে বলেছেন ইটভাটা মালিক।
এছাড়া স্বরুপপুর গ্রামের বাছের আলী মন্ডলের ছেলে আজাদুল ইসলাম আজাদসহ (৪৮) গ্রামের আরো অনেকেই জানান, আমরা গ্রামের কৃষক মানুষ আমাদের গ্রামের সাধারণ নি¤œবিত্ত কৃষকদের তিন ফসলী সব জমিই এ মাঠেই আছে। আর এ মাঠেই যদি ইটভাটা নির্মাণ বা চালু করে তাহলে আমাদের গোটা মাঠটির তিন ফসলি জমিতে ফসল (ধান) চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হবে বলে দাবি করেন কৃষকরা।
এব্যাপারে নির্মাণাধীন (মানিক বিক্রস) নামের ইটভাটা মালিক দাবি করে নওগাঁ শহরের চকমুক্তার (দয়ালের মোড়) এলাকার মুনছুর আলীর ছেলে শ্যামল ওরফে সুমন (৩৬) মোবাইল ফোনে জানান, আমি পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই স্বরুপপুর মাঠে (মানিক বিক্রস) নামের ইটভাটার নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। তিনি আরো জানান, স্থানীয় স্বরুপপুর গ্রামের জৈনক মঞ্জু, পিন্টু, বাবুসহ বেশ কয়েক জনের কাছে থেকে মোট ১৮ বিঘা জমি নিয়েই ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ