নওগাঁয় শীতকে উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৯, ১১:০৮ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ


নওগাঁয় শীতকে উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা-সোনার দেশ

উত্তরবঙ্গে চলমান মৃদ্যু শৈত প্রবাহ ও প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে নওগাঁয় বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। যত দ্রুত ধান লাগানো যায় ততই ভালো বলে মনে করছেন কৃষকরা। তাই এখন তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
জেলার অবারিত মাঠজুড়ে কলের লাঙ্গল, মেশিন থেকে পানি সরবরাহের শব্দ, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন আর তৈরি জমিতে সেই চারা রোপণের কাজ চলছে। এই শব্দের সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে কৃষকের হাঁকডাক আর গানের শব্দ। মাঠে মাঠে যেন সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ১শ ৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে কৃষকরা তাদের জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছেন। এ বছর জেলায় অধিকাংশ জমিতে জিরাশাইল জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে। রোপণকৃত অন্যান্য জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-২৮ ও ব্রিধান-২৯।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই বোরো মৌসুমে মোট বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৬শ ৯০ হেক্টর জমিতে। চলতি বোরো মৌসুমে ৪৮ হাজার ৪শ ১৯ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার, ৭৮ হাজার ৫শ ৩৯ মেট্টিকটন টিএসপি সার, ১৪ হাজার ৬শ ৭৬ মেট্রিকটন ডিএপি সার এবং ১১ হাজার ১শ ৮৭ মেট্রিকটন এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী এসব সারের মজুদ নিশ্চিত রয়েছে। পুরো মৌসুমে সারের কোন অপ্রতুলতা থাকবে না বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলা ভিত্তিক বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬শ ৩৫ হেক্টর, রাণীনগর উপজেলায় ১৮ হাজার ৫শ ৮৫ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ১১ হাজার ৯শ ৭০ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ২৭ হাজার ৮০ হেক্টর, পতœীতলা উপজেলায় ২০ হাজার ৮শ ২০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ১৬ হাজার ৩শ ৫ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৬ হাজার ১শ, ৯৬ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৮ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ২১ হাজার ৫শ ৭০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২১ হাজার ২শ ১৫ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ