নওগাঁয় ১০ বছর বিনা বেতনে উদ্যান ও শালবন পাহারায় ওরা ২৪ জন

আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, নওগাঁ


বিনা বেতনে এরাই শালবন পাহারা দেন সোনার দেশ

নওগাঁর ধামইরহাটে সংরক্ষিত শালবন বেষ্টিত আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রায় ১০ বছর ধরে বিনা বেতনে শালবন ও জাতীয় উদ্যান পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন ১২ গ্রামের ২৪ জন দরিদ্র মানুষ।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ‘পদক্ষেপ’ কর্তৃক ১২টি সমিতির ৬ জন নারীসহ ২৪ জনকে শালবন ও আলতাদিঘি দেখাশোনার জন্য সম্পৃক্ত করা হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে পদক্ষেপ তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে। ইতোমধ্যে ২০১১ সালে আলতাদিঘিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পদক্ষেপ- এর কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও এলাকার স্বার্থে ওই ২৪ জন অদ্যাবধি বনের দেখাশোনা, আলতাদিঘির মাছ রাতে পাহারা দেয়া, শালবন দেখাশোনা, জাতীয় উদ্যানে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সহযোগিতা করে আসছেন।
বন পাহারায় নিয়োজিত কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) বা কমিউনিটি বন পাহারা দলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সাইদুল ইসলাম ও সম্পাদক ফিরোজ বাবু জানান, আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হবার পরে ২০১২ সালে কক্সবাজারে বন পাহারায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘এক্সপোজার ভিজিট’ কার্যক্রমে ৭দিনের শিক্ষামূলক প্রদশর্নীতে অংশ গ্রহণ করে। তাাদেরকে ২০১০ সালে ধামইরহাটে আকস্মিক সফরে আসা তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা যথাক্রমে আবুল বাশার মিয়া ও অজিদ কুমার রুদ্র উদ্যান এলাকায় কর্ম সংস্থানের আশ্বাস প্রদান করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো বেতন-ভাতা পায়নি।
আলতাদিঘি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)’র সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় উদ্যান ও শালবন এলাকার জয়জয়পুর, মইশড়, মোল্লাপাড়া, আলতাদিঘি, দাদনপুর, খয়েরবাড়ী, অমরপুর, বাখরপুর, শেখায়পুর উত্তর চকযদু (খড়ডাঙ্গা)সহ প্রায় ১২টি গ্রামের ‘জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার’ নামক ১২টি সমিতির প্রত্যেকটিতে ২ জন করে মোট ২৪ জনের সমন্বয়ে পিপলস ফোরাম ও বনবিভাগের সমন্বয়ে বন পাহারাদল তৈরি করা হয় এবং তারা অদ্যাবধি বিনা পারিশ্রমিকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে আগত আরণ্যক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ‘পদক্ষেপ’ ১২টি সমিতিতে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকা এককালীন (রিভলবিং ফান্ড) প্রদান করেছে। এছাড়া আর কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ হয়নি।
উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ২৪ জনকে তাদের সমিতির মাধ্যমে এনজিও পদক্ষেপ বন পাহারার কাজে সম্পৃক্ত করেছে এবং কিছু অর্থ পাহারার জন্য সিপিজি’র সমিতিকে দিয়েছিল। ওই শ্রমিকদের নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে বনবিভাগের সাথে কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও অধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান এলাকায় হাজার পর্যটক, দর্শনার্থীদের আগমন, তাদের সার্বিক নিরাপত্তা, বনের শৃঙ্খলা ও বন দেখাশোনায় তারা ১০ বছর যাবৎ নিয়োজিত, তাদের ভাগ্যোউন্নয়ন তাদের পরিবারের সদস্যদের ভালভাবে দু’মুঠো ভাত তাদের মুখে তুলে দেবার লক্ষ্যে কর্মরত ২৪ জনকে স্থায়ী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-নজর দেয়া জরুরি। এ জন্য আমি সরকারের উর্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহমেদ নিয়ামুর রহমান জানান, ১০ বছর ধরে কারা জাতীয় উদ্যান ও শালবন দেখার দায়িত্বে আছে, কীভাবে আছে, কে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ