নওগায় পুলিশের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা || হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাই

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৮, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁর মহাদেবপুরে হাবিবুর রহমান (৪০) নামের এক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর তার সহযোগি ও স্বজনেরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রায়হান আলম (৩০) নামের এক পুলিশ সদস্য হামলাকারিদের হাসুয়ার কোপে আহত হয়েছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের বিরমগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে বিরমগ্রাম ও নারায়নপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও গ্রেফতারকৃত ওই সাতজনসহ মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান, তার সহযোগী মাহফিজুর রহমান, সুরজ আলীসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় মামলা হয়েছে। উপজেলার মাতাজী হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ আজিজুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, বিরমগ্রামের বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের মা রুবিনা খাতুন (৫৫), ভাই হাফিজুল ইসলাম (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন (১৮), হাফিজুলের স্ত্রী রুবি আখতার (৩০), একই গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন (৬০), খায়রুল ইসলামের ছেলে সাজু (৩৫) এবং আসলাম হোসেন (৪৫)।
এদিকে গ্রামবাসী ও গ্রেফতারকৃতদের স্বজনদের অভিযোগ, যারা মাদক ব্যবসায়ী তাঁদের কাউকেই ধরতে পারেনি পুলিশ। যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের কেউই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গেও তারা জড়িত ছিল না। তারা এরা বলেন, রাতে আসামি ধরা ও তল্লাশির নাম করে গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে পুলিশ।
মহাদবেপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিরমগ্রামে মৃত হজরত আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি হাবিবুর রহমানকে (৩৩) গ্রেফতার করতে মাতাজি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে যায়। হাবিবুরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাবিবুরের সহযোগী একই গ্রামের মাহফিজুর রহমান ও সুরজ আলী পুলিশের কাছ থেকে হাবিবুরকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ধ্বস্তাধস্তি শুরু করে। এক পর্যায়ে হাবিবুর পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে হ্যান্ডক্যাপ পরা অবস্থায় ধারালো হাসুয়া দিয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রায়হান আলমকে কোপ দেয়। এতে রায়হান আলমের বাম হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে যায়। এসময় হ্যান্ডকাপ পরিহিত অবস্থায় হাবিবুর পালিয়ে যায়। পরে রাতে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় বিরমগ্রামের মাহফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে ৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মাদক ব্যবাসায়ীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দুপুরে বিরমগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিরমগ্রামের বাসিন্দা মাহফিজুর রহমান, তার ছোট ভাই মামুনের ঘর, একই গ্রামের রমজান আলী, তার ছেলে সুরুজ আলী, চান মোহাম্মদ ও তারেজ আলীর ঘরের টিভি, থালা-বাটিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

বিরমগ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘আমার ছেলে সুরুজ আলী নাকি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাতের বেলা হামার বাড়িত ঢুকে বাড়ির সব ঘর তল্লাশির নামে ভাঙচুর চালিয়েছে পুলিশ। বাড়ির সব আসবাবপত্র ভেঙে ফেলেছে। ভাত খাওয়ার জন্য হাড়ি-পাতিল, থালা-বাটি কিছুই ভালো নেই। হামার ছেলে দোষ করতে পারে তাই বলে জিনিসপত্র ভাঙল ক্যান।’
গ্রেফতারকৃত আসলামের স্ত্রী কামরুন্নাহার বলেন, পুলিশ অভিযান চালানোর সময় মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ছোট ভাই হাফিজুল বাড়ির প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাড়িতে ঢুকে হাফিজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমাদের বাড়িতে হাফিজুল ঢুকেছে ক্যান এই অভিযোগে আমার অসুস্থ স্বামীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। আমার স্বামী হার্টের রোগি।
বিরমগ্রামের বাসিন্দা রাশেদা খাতুন, মফিজুল, জাকির হোসেনসহ ছয়-সাতজন জানান, গ্রামের সবাই জানে হাবিবুর রহমান, মাহফিজুর, সুরুজআলী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্ত লোক। অথচ পুলিশ ওদের কাউকেই গ্রেফতার করতে না পেরে নিরীহ কয়েকজন লোককে ধরে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান তল্লাশির নামে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের হ্যান্ডকাপসহ পলাতক হাবিবুরসহ অন্যদের ধরার চেষ্টা চলছে।’
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তল্লাশির নামে ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারে পেশাগত কাজের অংশ হিসেবে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তবে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।